ফরিদপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হওয়ার আগেই অনুষ্ঠান শুরু করাকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবলু অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর আগেই মূল কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে হট্টগোল শুরু হয়। এ ঘটনায় মেজাজ হারান শামা ওবায়েদ।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে রাজনীতি করতে আমরা আসি নাই। জনগণের প্রতিনিধিরা তারা যদি এ ধরনের আচরণ করে তাহলে জনগণ কী শিখবে? এখানে সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি, সুতরাং এ ধরনের আচরণ দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি মন পরিষ্কার করে একসঙ্গে কাজ না করি, তাহলে আপনারা বলে দেন, আমার জেলা ফরিদপুরে আর আসব না। এই রাজনীতি গত ২০ বছরে দেখে আসছি। এই নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
পরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছে, যা নারী শিক্ষার প্রসারে একটি সুবর্ণ সুযোগ। দেশের অর্ধেক নারী সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন করছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুজনদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি মানুষের এবং জানমালের উন্নয়নে বিশ্বাসী।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এন কে বি নয়ন/কেএইচকে/জেআইএম

