Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ভাটারায় গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

রাজধানীর ভাটারা থানার বাড়িধারা এলাকার একটি বাসার গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ রিয়াজ (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে...
Homeআওয়ামী লীগের লোকেরা বলেছিল—‘গুলি করেছি মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’

আওয়ামী লীগের লোকেরা বলেছিল—‘গুলি করেছি মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’

‘গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালে গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন এভাবেই চিকিৎসককে শাসিয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন গুলিবিদ্ধ এক ভুক্তভোগী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষী তার জবানবন্দি পেশ করেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মঈনুল করিম ও মার্জিনা রায়হানসহ অন্যরা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠতম এই সাক্ষী এমন জবানবন্দি দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেন, আমি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র-আন্দোলন দেখতে যাই। বাজারে যেতেই বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে ছাত্রদের ওপর গুলি করতে দেখি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা যান। আহত হন আরও অনেকে। সবাই রক্তাক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, এসব দেখে ভয়ে বাসার দিকে রওনা হই। তখন পেছন থেকে আমার কোমরের নিচে একটি গুলি লেগে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এসময় এজলাসে প্যান্ট খুলে নিজের গুলিবিদ্ধের ক্ষত স্থানটি দেখান তিনি।

সাক্ষী আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে আমাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান কিছু লোকজন। ওইদিন চিকিৎসা হলেও ২০ জুলাই রাতে আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কারণ ওইদিন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের লোকজন। তারা চিকিৎসকদের বলেছিলেন—‘এদের গুলি করা হয়েছে মরেনি, এদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।’

এরপর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। বাসায় ফিরে আসার পর আমার বাসায় আসেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বলা হয়, ‘তুমি গুলি খেয়েছো, এই এলাকায় থাকতে পারবে না’। তবে এলাকার নির্দলীয় একজন আমাকে ভরসা দেন। পরবর্তী সময়ে আমি নিজ খরচে ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউরকে দায়ী করেন সাক্ষী। বর্তমানে কোনো কাজ করার সক্ষমতা নেই তার। এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

এ মামলায় মোট আসামি চারজন। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

পলাতকরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান।

এফএইচ/এমকেআর