ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি সোমবারই (২৫ মে) সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বর্তমানে ভারত সফরে থাকা রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের আলোচকদের সামনে এখন একটি ‘বেশ শক্ত প্রস্তাব’ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে তার আলোচক দলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমেছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন। তার সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ায় আলোচনা কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দুই পক্ষ চুক্তির ‘খুব কাছে এবং একই সঙ্গে অনেক দূরে’ অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন>>
ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন?
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরোধ প্রকাশ্যে
পাহলভি নয়, ইরানে যাকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ হওয়া তহবিল ফেরত এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
এদিকে চুক্তিটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সিনেটর টেড ক্রুজ ও লিন্ডসে গ্রাহাম একে ‘বিপর্যয়কর ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর জবাবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘হেরে যাওয়া অপবাদকারীদের কথা আমি শুনি না। চুক্তি হলে তা ভালো এবং সঠিকই হবে।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র: বিবিসি
কেএএ/

