অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় কিংবা সকালে রাস্তার পাশে গরম গরম সিঙাড়া দেখে মন বলে খাই। কিংবা রাতে সিনেমা দেখতে দেখতে পিজ্জা, বার্গার, বিরিয়ানি, পছন্দের চকলেট, ফুচকা খাওয়ার ক্রেভিং আটকানোর মতো কঠিন কাজ পৃথিবীতে বোধ হয় দ্বিতীয়টি নেই। শরীরের বাড়তি ওজন, অ্যাসিডিটি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, মনের চাওয়া পূরণ করতে পারেন না। কিন্তু আজ আপনার মন যা চায় তাই খেতে পারেন। দিনটি আজ মন যা চায় তাই খাওয়ারই তো।
আজ আন্তর্জাতিক নো ডায়েট দিবস। ডায়েট, শরীরের গড়ন নিয়ে অযথা চাপ, আর ‘পারফেক্ট ফিগার’ পাওয়ার দৌড় থেকে একদিনের ছুটি নেওয়ার বার্তাই দেয় এই দিবস। দিনটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯২ সাল থেকে। ভাবতে অবাক লাগতে পারে, যে আজ থেকে ৩৪ বছর আগেও মানুষ পছন্দের খাবার খেতে পারতেন না এই ডায়েটের চক্করে পরে।
ব্রিটিশ কর্মী মেরি ইভানস ইয়ং এই দিনটির সূচনা করেন। নিজের জীবনে খাওয়ার সমস্যার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছিলেন ডায়েট সংস্কৃতি অনেক সময় মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি দিন, যেদিন মানুষ নিজের শরীরকে যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করবে, আর খাবারকে অপরাধবোধ ছাড়া উপভোগ করবে।
- আরও পড়ুন
সসে ডুবিয়ে টুথপিক ভাজা খাচ্ছেন কোরিয়ানরা
পুরান ঢাকার ‘বাকরখানি’: স্বাদের আড়ালে বেদনাময় প্রেমকাহিনি
শরীরের বাড়তি ওজন সবারই কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। বাহ্যিক সৌন্দর্য কমে যাওয়া, মানুষের কটু কথা শোনা অনেকেরই মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এটি স্ট্রেসের অন্যতম কারণ। তাই তারা কঠোর ডায়েট মানেন। ভাত, রুটি, ফাস্টফুট খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। দিনের পর দিন শাক-সবজি খেয়ে থাকেন তারা। ফলে প্রিয় খাবার খেতে না পারার জন্যও তাদের মনের উপর বড় চাপ ফেলে।
নো ডায়েট দিবসের মূল বার্তা খুব সহজ ‘নিজেকে ভালোবাসুন, শরীরকে সম্মান করুন, আর খাবারকে শত্রু ভাববেন না।’ এই দিনে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া হয় কড়াকড়ি ডায়েট থেকে একটু বিরতি নিতে, নিজের পছন্দের খাবার খেতে এবং শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা থেকে দূরে থাকতে।
তবে এই দিবস মানে এই নয় যে সারাবছরের সব স্বাস্থ্য সচেতনতা ভুলে যেতে হবে। বরং এটি একটি রিমাইন্ডার স্বাস্থ্য মানে শুধু ওজন কমানো নয়, মানসিক স্বস্তি এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আজ যদি বিরিয়ানি খেতে ইচ্ছে করে, খান। আইসক্রিম চাইলে সেটাও খান। বন্ধুদের সঙ্গে পছন্দের চটপটি, ফুসকা, পিজ্জা, বার্গার যা ইচ্ছা হয় খান। প্রিয় যে চকলেট, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি এতদিন ধরে খেতে পারছিলেন না আজ খেয়ে নিন। কারণ আজকের দিনটি কোনো নিয়মের নয় আজকের দিনটা নিজেকে একটু বেশি ভালোবাসার।
সূত্র: ন্যাশনাল টুডে, ডেইজ অব দ্য ইয়ার
কেএসকে

