Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

G.M. Plans to Develop Energy Storage Batteries as E.V. Sales Flag

The carmaker will follow Tesla in making components for large batteries used by electric utilities, data centers and other businesses to handle fluctuations in...
Homeএসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার কি ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর

এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার কি ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর

বর্তমানে ওয়েলনেস ট্রেন্ডে এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ও লাইফস্টাইল কনটেন্টে দাবি করা হচ্ছে, এই ডিফিউজার ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশ শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং ঘুম ভালো হয়। ঘরের ভেতর যেন ছোটখাটো স্পা-এর মতো একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অভ্যাস কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ? আসুন জেনে নেওয়া যাক- 

এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার যেভাবে কাজ করে

ডিফিউজারের মাধ্যমে এসেনশিয়াল অয়েল বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয় অ্যারোসোল বা সূক্ষ্ম বাষ্প আকারে। এই প্রক্রিয়ায় তেল বাতাসের সঙ্গে মিশে ঘরের পরিবেশে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয়। বাইরে থেকে এটি যতটা আরামদায়ক মনে হয়, ভেতরের বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বাতাসে ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (ভিওসি) ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘ সময় শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

jago

বন্ধ ঘরে ব্যবহারে বাড়ে ঝুঁকি

যদি ঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে জানালা-দরজা বন্ধ অবস্থায় দীর্ঘ সময় চালু রাখলে বাতাসে রাসায়নিক যৌগ জমতে শুরু করে।

এই জমে থাকা যৌগগুলো ধীরে ধীরে ঘরের বাতাসকে দূষিত করে তোলে, যা ফুসফুসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বন্ধ ঘরে এটি ব্যবহার করা বিশেষজ্ঞরা নিরুৎসাহিত করেন।

শ্বাসযন্ত্রের ওপর প্রভাব

এসেনশিয়াল অয়েলের বাষ্প শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসনালির ভেতরের মিউকাস মেমব্রেনে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে অনেকের ক্ষেত্রে বুকে ঘড়ঘড় শব্দ, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি-কাশি বা গলায় খুসখুসে ভাব দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা সিওপিডি আছে, তাদের জন্য এই ডিফিউজার ব্যবহার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এটি শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শ্বাসনালিকে অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে।

ত্বকের ওপর প্রভাব

শুধু শ্বাসযন্ত্রই নয়, এসেনশিয়াল অয়েল ত্বকের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস নামক চর্মরোগ সৃষ্টি করতে পারে। এতে ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি বা জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

কতক্ষণ ব্যবহার নিরাপদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করে, তবে সীমিত সময়ের জন্য এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একটানা দীর্ঘ সময় চালু রাখা উচিত নয়।

সাধারণভাবে দিনে ২০-৩০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। পাশাপাশি দিনে একবারের বেশি ব্যবহার করাও নিরুৎসাহিত করা হয়। এতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমে আসে।

এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার ঘরের পরিবেশকে সুগন্ধময় ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে, তবে এর ব্যবহার সবসময় নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বন্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে এটি শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করার আগে ঘরের ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা জরুরি এবং সময়সীমা মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। আর যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মেডিকেল নিউজ টুডে

এসএকেওয়াই