Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeকেমন দল বাংলাদেশের নতুন প্রতিপক্ষ সান মারিনো?

কেমন দল বাংলাদেশের নতুন প্রতিপক্ষ সান মারিনো?

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক এক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ৫ জুন। দলটির নাম সান মারিনো। বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে দূর্বল দলটি ইউরোপের সান মারিনো। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবার নিচে ২১১ নম্বরে তারা। এমন একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ ঠিক করার পর থেকেই বাফুফে বলে আসছে ঐতিহাসিক। কারণ, বাংলাদেশ যে আগে কখনো ইউরোপে গিয়ে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে খেলেনি।

বাংলাদেশ এর আগে ইউরোপের মাটিতে একটি ম্যাচ খেলেছে ২০০০ সালে। তবে ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটিতে হওয়া ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। সেটি ছিল ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে।

বাংলাদেশ ইউরোপের দেশের বিপক্ষে আগে দুটি ম্যাচ খেলেছে। দুটিই ছিল ভারতের মাটিতে। ২০০১ সালে ভারতের কোচিতে হওয়া মিলেনিয়াম সুপার সকার কাপে বাংলাদেশ বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা এবং যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলে হেরেছিল ২-০ ও ৪-১ গোলে।

সান মারিনো কেমন দল নিয়ে ফুটবলামোদীদের আগ্রহের কমতি নেই। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে কাগজ-কলমে সান মারিনো বিশ্বের সবচেয়ে দূর্বলতম দল। বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্রতম এবং প্রাচীনতম স্বাধীন দেশ সান মারিনো। এটি ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চার দিকে ইতালি দিয়ে ঘেরা একটি দেশ। আয়তন মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার। আয়তনে বিশ্বের পঞ্চম এবং ইউরোপের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। জনসংখ্যা ৩৫ হাজারের মতো। দেশটিতে নিবন্ধিত ফুটবলারের সংখ্যা ২ হাজারেরও কম।

সান মারিনো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা শুরু করে ১৯৮৬ সালে। উয়েফার সদস্যপদ লাভ করে ১৯৮৮ সালে। তারও দুই বছর পর পায় ফিফার সদস্যপদ। এ পর্যন্ত দেশটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ২২৩ টি। এতগুলো ম্যাচ খেলেও তাদের জয়ের খাতা খুবই নগন্য। মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতেছে দেশটি। তিনটিই জিতেছে ইউরোপের আগের দূর্বল দেশ লিচনস্টেইনের বিপক্ষে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দেশটির অবস্থান ২০৬।

সান মারিনো ফিফা স্বীকৃত ম্যাচ প্রথম খেলে ১৯৯০ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। ম্যাচটি তারা হেরেছিল ৪-০ গোলে। ইতিহাসে সান মারিনো প্রথম জয় পেয়েছিল ২০০৪ সালে। এরপর ২০ বছর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২৪ সালে দুটি ম্যাচ জিতেছিল। ২০ বছর পর প্রথম জয়ে দেশজুড়ে হয়েছিল আনন্দ উৎসব।

দলটির বেশিরভাগ ম্যাচই ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায়। যেমন বিশ্বকাপ বাছাই, ইউরো কাপ বাছাই, উয়েফা নেশন্স কাপ বাছাই। ছোট দল হলেও খেলতে হয় বড় বড় প্রতিক্ষের সাথে। যেমন বিশ্বকাপ জেতা ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ডও তাদের মাঠের প্রতিপক্ষ। বড় বড় ব্যবধানে হারের কারণে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তলানিতে পড়ে আছে দেশটি। এশিয়ার কোনো দেশের বিপক্ষে এখনো ফিফা স্বীকৃত কোনো ম্যাচ খেলেনি সান মারিনো। তবে দেশটি প্রথম প্রদর্শণী ম্যাচ খেলেছিল এশিয়ার দেশ লেবাননের বিপক্ষে ১৯৮৭ সালে।

সান মারিনো চ্যাম্পিয়নশিপ-দেশটির প্রধান লিগ। ১৬ টি দল অংশ নেয় এই লিগে। তবে পুরো পেশাদার নয়। বলা যায় সেমি প্রফেশনাল। কোপা তিতানো নামের একটা টুর্নামেন্টও হয় দেশটিতে। লিগে কোনো রেলিগেশন নেই।

বেশিরভাগ খেলোয়াড় অন্য কাজ করেন। যেমন ব্যাংকে চাকরি করেন, দোকানে কাজ করেন কিংবা শিক্ষার্থী। ব্যবসাও করেন কেউ কেউ। ফুটবল শুধু ভালোবাসার জন্য খেলেন। দেশটির জাতীয় দলে এই অপেশাদার লিগের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ খেলোয়াড়।

বেশ কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা ইতালিতে চতুর্থ বিভাগে খেলে থাকেন। ফ্রান্স ও মাল্টার ছোট ছোট লিগে খেলা কয়েকজন ফুটবলারও ছিলেন দেশটির সর্বশেষ জাতীয় দলে। দেশটির ফুটবলাররা ক্লাবে খেলে খুবই কম পারিশ্রমিক পান। পরিমাণটা মাসে ২০০ থেকে ৮০০ ইউরোর মতো।

আরআই/আইএইচএস/