Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeকোথাও মৃত্যুদণ্ড, কোথাও খোজাকরণ-কোন দেশে ধর্ষকের কী শাস্তি

কোথাও মৃত্যুদণ্ড, কোথাও খোজাকরণ-কোন দেশে ধর্ষকের কী শাস্তি

ধর্ষণ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তবে এই অপরাধের শাস্তি একেক দেশে একেক রকম। কোথাও মৃত্যুদণ্ড, কোথাও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আবার কোথাও রাসায়নিক খোজাকরণ বা কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশনের (অস্ত্রোপচার ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে খোজা করা হয়) মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্ষণবিরোধী আইন আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হওয়ায় বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন শাস্তির বিধান যুক্ত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর শাস্তি নয়, দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবুও বিশ্বজুড়ে ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও বিতর্ক দুই-ই বাড়ছে।

যেসব দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

বর্তমানে কয়েকটি দেশে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এসব দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

jagonews

চীন, সৌদি আরব, ইরান

চীনে ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। সৌদি আরব ও ইরানে শরিয়া আইনের আওতায় ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের নজির রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত-এও গুরুতর ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইন্ডিয়া

ইন্ডিয়াতে ২০১৮ সালে আইন সংশোধন করে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়। এছাড়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা ধর্ষণের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ

বাংলাদেশেও ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী এনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করা হয়। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর একাংশের দাবি, শুধু শাস্তি বাড়ালেই অপরাধ কমে না; প্রয়োজন কার্যকর বিচারব্যবস্থা।

রাসায়নিক খোজাকরণ নিয়ে বিতর্ক

বিশ্বের কয়েকটি দেশে ধর্ষকদের জন্য কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন বা রাসায়নিক খোজাকরণের বিধান রয়েছে। এটি এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে যৌন আকাঙ্ক্ষা বা সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়।

পাকিস্তান

পাকিস্তান ২০২১ সালে ধর্ষণবিরোধী আইনে রাসায়নিক খোজাকরণের বিধান যুক্ত করে। বিশেষ করে সিরিয়াল বা সংঘবদ্ধ ধর্ষকদের ক্ষেত্রে এই শাস্তির কথা বলা হয়।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া শিশু ধর্ষণের ঘটনায় রাসায়নিক খোজাকরণ এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন দেয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর এই ব্যবস্থা নেন।

সাউথ কোরিয়া

অন্যদিকে সাউথ কোরিয়া ২০১১ সালে শিশু যৌন অপরাধীদের জন্য রাসায়নিক খোজাকরণ আইন কার্যকর করে। পরে এটি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।

jagonews

কোথাও শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে খোজাকরণ

বিশ্বের কিছু দেশে আরও কঠোর পদ্ধতি হিসেবে সার্জিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন বা স্থায়ী খোজাকরণের আইন রয়েছে।

মাদাগাস্কার সম্প্রতি শিশু ধর্ষকদের জন্য শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে স্থায়ী খোজাকরণের আইন কার্যকর করেছে। বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় এই শাস্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্র-এও কিছু যৌন অপরাধীর ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল ক্যাস্ট্রেশনের নজির রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রাসায়নিক খোজাকরণের বিধান থাকলেও ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নয়। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালে এক রায়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। তবে সম্প্রতি লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে শিশু ধর্ষকদের জন্য সার্জিক্যাল ক্যাস্ট্রেশনের আইন পাস হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম।

ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডকে প্রাধান্য দেয়। মানবাধিকার ও বিচারিক ভুলের ঝুঁকির কারণে মৃত্যুদণ্ড বা স্থায়ী শারীরিক শাস্তির বিরোধিতা করে অনেক দেশ।

jagonews

কিন্তু কঠোর শাস্তিই কি সমাধান?

বিশ্বজুড়ে ধর্ষণের শাস্তি যতই কঠোর হোক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, অপরাধ কমাতে শুধু শাস্তির ভয় যথেষ্ট নয়। দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, সামাজিক শিক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সমানভাবে জরুরি।

কারণ আইন যত কঠোরই হোক, তার সঠিক প্রয়োগ না হলে অপরাধ কমানো কঠিন। তাই ধর্ষণবিরোধী লড়াইয়ে প্রয়োজন শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনও।

জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, হু,ইউএন ওম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বেশ কিছু গবেষণা ও পরিসংখ্যান রয়েছে। তারা বলছে, বিশ্বে প্রায় প্রতি ৩ জন নারীর মধ্যে ১ জন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হন। প্রায় ২৬৩ মিলিয়ন নারী জানিয়েছেন, তারা সঙ্গী নন এমন কারও দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রায় প্রতি ৮ জন মেয়ের মধ্যে ১ জন ১৮ বছর হওয়ার আগেই ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি, কারণ বিশ্বের বড় অংশের ঘটনাই রিপোর্ট হয় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু যৌন নির্যাতনের বড় অংশই প্রকাশ পায় না। বিশ্বে ধর্ষণের মাত্র ১০ শতাংশের মতো ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট হয়। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে রিপোর্টই হয় না।

অনেক দেশে ধর্ষণ মামলার সাজা হওয়ার হার ৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। কিছু উন্নত দেশে এই হার তুলনামূলক বেশি হলেও, বহু দেশে মামলা প্রমাণের জটিলতা, সামাজিক চাপ ও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বহু দেশে ধর্ষণবিরোধী আইন থাকলেও প্রায় ৩০ শতাংশ দেশে কার্যকর প্রসিকিউশন গাইডলাইন নেই।

কেএসকে