পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) জেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, ২৬ মে আরও ৪৭ শতাংশ এবং ২৭ মে অবশিষ্ট ৮ শতাংশ কারখানায় ছুটি হবে।
বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় ছুটি পেয়েই রোববার রাত থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যায়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সকালে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীবাহী বাস সড়কের দুই পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।
রংপুরগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঈদের সময় যানজট ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এক সপ্তাহ আগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। রোববার কারখানা ছুটি হওয়ার পর আজ সকালে আমি রওনা হয়েছি।’
আরেক পোশাককর্মী নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী আলাদা দুটি কারখানায় চাকরি করি। রোববার স্ত্রীর কারখানা ছুটি হয়েছে। তাই সন্তানসহ তাকে বাসে তুলে দিতে এসেছি। আমার কারখানা মঙ্গলবার ছুটি হবে। আশা করছি, ঈদের আগের দিন বাড়ি ফিরতে পারবো।’
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তিন ধাপে কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না বলে আমরা আশা করছি।’

বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে তিনি জানান, এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের বেতন এরইমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪ শতাংশ শ্রমিকের বেতনও সোমবারের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে।’
গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার বলেন, জেলার অধিকাংশ কারখানাই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। ধাপে ধাপে ছুটি হওয়ায় শ্রমিকরা স্বস্তিতে গ্রামের বাড়ি ফিরতে পারবেন।
অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম।
তিনি বলেন, ‘চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সাভারের বাইপাইল এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখানে যানবাহনের ধীরগতি দেখা দিতে পারে।’
তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করছি। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যাতে স্বস্তিতে গাজীপুরে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’
আমিনুল ইসলাম/এফএ/এএসএম

