নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে টানা হারের ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথম জয় পেয়েছিল ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ম্যাচে। নেপালে অনুষ্ঠিত সাফের পরের আসর ২০২৪ সালেও গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে জিতেছিল লাল-সবুজের মেয়েরা। দুই দেশের ১২ বারের দেখায় বাংলাদেশের জয় ওই দুটিই। আর একটি ম্যাচ ছিল ড্র। বাকি ৯ টি হার।
রোববার রাতে ভারতের গোয়ায় দুই দেশ মুখোমুখি হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ম্যাচে। তার আগে ওপরের পরিসংখ্যান সাজিয়ে দেওয়ার কারণ নারী ফুটবলে ভারতের শক্তিটা তুলে ধরা। তবে নারী ফুটবলে আগের সেই বাংলাদেশ নেই। ভারত যখন মাঠে নেমেই বাংলাদেশকে হারিয়ে উদযাপন করতো তখন দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল অনেক। বাংলাদেশ জাতীয় দল তৈরি হতো এক ঝাঁক কিশোরী দিয়ে। ভারতের খেলোয়াড়রা থাকতেন অভিজ্ঞ। বাংলাদেশ এখন পুরো অভিজ্ঞ দল। এরই মধ্যে একটি এশিয়ান কাপও খেলে ফেলেছে।
তাই রাতের ম্যাচটি ভারতের মাটিতে হলেও বাংলাদেশ ছেড়ে কথা কইবে না সেটাই স্বাভাবিক। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। এবার সুযোগ হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দলই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। রোববারের ম্যাচটি গ্রুপসেরা হওয়ার।
অন্য গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছে নেপাল ও ভুটান। কাগজ-কলমে শ্রীলংকারও সম্ভাবনা আছে। রোববারই ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নেপাল ও শ্রীলংকা। দুই দেশের শক্তিমত্তায় ধারণা করা হচ্ছে শ্রীলংকাকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে সেমিফাইনাল খেলবে নেপাল। হিমালয়ের দেশটি সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে সাফে। গত দুই আসরের ফাইনালে হেরেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় শক্তিশালী দল ধরা হয় নেপালকে। তাই তো বাংলাদেশ ও ভারত কেউই চাইবে না সেমিফাইনালে দলটিকে মোকাবিলা করতে। বাংলাদেশ ও ভারত মাঠে নামার আগেই জেনে যাবে কি ফল করলে তাদের সেমিফাইনালে কোন দলকে মোকাবিলা করতে হবে।
গ্রুপসেরা হতে হলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। ড্র হলেও সেরা হবে ভারত। কারণ তারা মালদ্বীপকে হারিয়েছে ১১-০ গোলে। দ্বীপ দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ৪-২ ব্যবধানে।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পিটার বাটলারের জন্য স্বস্তির খবর হলো তিনি একাদশে ফেরাতে পারবেন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও মিডফিল্ডার মনিকা চাকমাকে। ফিট না থাকায় দুইজনকেই দলের বাইরে রাখতে হয়েছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে। মাঝমাঠে মনিকার উপস্থিতি নতুন অধিনায়ক মারিয়ার জন্যও স্বস্তির। মধ্যমাঠে এই দুইজনের চমৎকার বোঝাপড়া দীর্ঘদিনের।
আরআই/আইএন

