চট্টগ্রামে একদিনে দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার ২

চট্টগ্রামে একদিনে দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার ২

চট্টগ্রাম নগরে পৃথক দুটি এলাকায় দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও ডবলমুরিং থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী মো. হাসান (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে নগরের ডবলমুরিং থানার একটি এলাকায় আরেক শিশুকে ডেকে নিয়ে একটি খালি প্লটে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে মো. এহসান (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে চাইলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

গ্রেফতার এহসান একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘিরে ফেলে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন। পরে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মনির হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে বিক্ষুব্ধরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার গ্রেফতার মনির হোসেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এমআরএএইচ/কেএইচকে

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles