Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

বিএনপি সরকারি অফিসগুলোকে দলীয় অফিসে পরিণত করেছে: আব্দুল জব্বার

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেছেন, মানুষের অধিকার পূরণ না করে বিএনপি সরকারি কার্যালয়েগুলোকে তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছে। অথচ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা...
Homeচার বছরে একদিনও গোয়ালঘর থেকে বের হয়নি জামালপুরের ‘জমিদার’

চার বছরে একদিনও গোয়ালঘর থেকে বের হয়নি জামালপুরের ‘জমিদার’

জামালপুরের মেলান্দহে এখন মানুষের মুখে মুখে একটাই নাম ‘জমিদার’। এক টনেরও বেশি ওজনের বিশালদেহী এক গরুর নাম এটি। গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। আকর্ষণীয় গড়ন, আলাদা যত্ন আর ব্যতিক্রমী আচরণের কারণে কোরবানির হাটে ওঠার আগেই এলাকায় ব্যাপক খ্যাতি পেয়েছে গরুটি।

গরুটির ওজন প্রায় এক হাজার ৩০০ কেজি। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতা আর ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকৃতির এই গরুটিকে জমিদার নাম দিয়েছেন খামারি। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুটিকে হাটে তোলার প্রস্তুতি চলছে। তবে হাটে ওঠার আগেই গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন মালিকের বাড়িতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছেন বিশালদেহী এই গরুটিকে।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারেই বেড়ে উঠেছে ফিজিয়ান জাতের এই বিশাল গরুটি।

তারকা বনে গেছে জামালপুরের ‘জমিদার’

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে খামার ঘুরে দেখা যায়, আকার-আকৃতিতে বিশাল জমিদারের জীবনযাপনও অনেকটা রাজকীয়।

খামারি রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, গরুটির খাবারের পেছনে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। বাসি খাবার সে একদমই খায় না, সবসময়ই টাটকা খাবার দিতে হয়। এ কারণে গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। চার বছর আগে গোয়ালঘরেই জন্ম হয় গরুটির। ছোটবেলা থেকে সন্তানের মতো করে লালন-পালন করা হয়েছে। এখন অবস্থা এমন যে, গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ঘরের দেওয়াল ভাঙতে হবে।

রফিকুল ইসলামের চোখে-মুখে স্বপ্ন আর পরিশ্রমের গল্প। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই গরুটার পেছনে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা আর গমের ভুসি। নিজের সন্তানের মতো করেই যত্ন নিই, নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসলও করাই। গত বছর ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল, তবুও বিক্রি করিনি। মনে হয়েছিল, আরও একটু বড় হোক, আরও সুন্দর হোক। এতদিনের কষ্টের একটা ভালো মূল্য যেন পাই। এবার যদি ভালো দাম পাই, তাহলে গরুটাকে বিক্রি করে দেব।’

আবেগি কণ্ঠে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ‘সন্তানের মতো করেই গরুটিকে বড় করেছি। পরিবারের সবাই মিলে দিন-রাত তার যত্ন নিয়েছি। অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছি। এবার যদি ভালো দামে বিক্রি করতে পারি, তাহলে সেই টাকা দিয়ে আমাদের একটা ভালো ঘর হবে এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

তারকা বনে গেছে জামালপুরের ‘জমিদার’

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন বলেন, ‘এমন বিশাল দেহের গরু আগে কখনো এলাকার মানুষ দেখেনি। গরুটি লালনপালনকারী রফিকুল ইসলাম গরীব মানুষ। কষ্ট করেই লালন পালন করেছে। একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে তার পরিবার ভালো থাকতে পারবে।’

স্কুলছাত্র জিসান আহম্মেদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, ‘আমাদের এলাকায় এর আগে এত বড় গরু কেউ কখনো দেখেনি। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসছে। আমরা এতদিন শুধু বড় গরুর গল্পই শুনেছি, কিন্তু এবার নিজের চোখে দেখলাম। এত বিশাল আর সুন্দর গরু সামনে থেকে দেখলে সত্যিই অনেক ভালো লাগে।’

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্লাটফর্ম চালু রয়েছে। এছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় গবাদি পশু রয়েছে এক লাখ সাত হাজার ৬৫টি। জেলার জন্য চাহিদা ৮২ হাজার‌। বাকি ২৩ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হবে।

এমএন/জেআইএম