বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে ভিড় বেড়েছে কামারের দোকানে। ছুরি, চাকু, চাপাতি, মাংসের হাড় কাটার কুড়াল ও বঁটি বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। বিভিন্ন দোকানে সরঞ্জামগুলো মিলছে বৈশিষ্ট্য কিংবা ওজনভেদে।
পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় কামারপল্লিগুলো মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। দগদগে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পেটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। আবার এসব ধাতব সরঞ্জামে শান দিতেও দোকানে ভিড়ের কমতি নেই।
প্রতি বছর হাজার হাজার গরু, খাসি, ভেড়া, উট, দুম্বা, মহিষ কোরবানি হয়। পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত প্রয়োজন হয় দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ নানা ধাতব হাতিয়ারের।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কামারশালাগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। এখানে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০টি কামারের দোকান রয়েছে। এছাড়া পুরান ঢাকার রায়সাহেববাজার, ঠাঁটারীবাজার, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী, গুলশান-বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসেছে পশু জবাইয়ের নানা সরঞ্জামের দোকান।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কারওয়ান বাজার কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের ব্যস্ততা ও ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের বিভিন্ন সাইজের দা, ছুরি, বঁটি, চাকু, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। লোহার পাশাপাশি স্টিলের তৈরি ছুরি-চাকুরও বেশ চাহিদা রয়েছে।
কারওয়ান বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর জন্য তারা সরঞ্জাম কিনছেন। এসব সরঞ্জামের দাম তুলনামূলকভাবে এবার বেশ চড়া বলে জানিয়েছেন তারা।

রানা ও মিনহাজসহ এখানকার একাধিক বিক্রেতা জানান, সারাবছর এসব জিনিসপত্রের বেচা-বিক্রি কম থাকে। তবে কোরবানির ঈদ এলেই বিক্রি বাড়ে।
তারা আরও জানান, লোহার দাম বাড়লেও ক্রেতা কম থাকায় আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে বিক্রি কম হলেও গত চার-পাঁচ দিন ধরে বিক্রি বেড়েছে। আজও অনেক বিক্রি ছিল। শেষের দিন কালও বিক্রি বেশি হবে বলে আশা তাদের।
কয়েকজন কামার বলছেন, কখনো কম, কখনো বেশি, বিশেষ করে কোরবানির সময় একটু ভালো বিক্রি হয়। আর সারাবছর ভালোমন্দ মিলিয়েই এভাবেই ২৫ বছর ধরে চলছে তাদের কারবার।

সুমিত কর্মকার নামে কোরবানির পশুর মাংস কাটার একজন সরঞ্জাম বিক্রেতা বলেন, ঈদে কোরবানির পশু যত বেশি বিক্রি হবে, তত বেশি আমাদের বেচা হবে। এ ব্যবসা অনেকটা কোরবানির পশু বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টির কারণে গত দুদিন বিক্রিতে ভাটা পড়লেও ঈদের আগে আজ (মঙ্গলবার) এবং কাল (বুধবার) শেষ দুই রাতের জন্য অপেক্ষা করছি।
ক্রেতাদের দাবি, গতবারের তুলনায় পশু কাটার সরঞ্জামের দাম একটু বেশি। অন্যদিকে, বেশি দামের কথা স্বীকার করতে চান না দোকানিরা।
তারা জানান, আগের মতোই পশুর চামড়া আলাদা করার ছুরি (ছোট) ৩০০ টাকা, মাঝারি ৩৫০ টাকা, পাগলু সাইড ছুরি ৪০০ টাকা এবং বড় জবাই ছুরি (স্প্রিংয়ের বাঁট) ৬০০,৭০০ এবং ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লোহার ধরন ও আকারভেদে ১২০০ থেকে ১৫০০, এমনকি ১৮০০ বা ২ হাজার টাকাও দাম পড়ে জবাইয়ের ছুরির।
জানা গেছে, চাপাতি ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ছোটবড় ওজনে বিক্রি হচ্ছে চাপাতি।
চাইনিজ কুড়াল সাড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা, লোহার বাঁটঅলা দা ৮-৯০০ টাকা, লোহার বঁটি প্রতি পিস সাড়ে ৫০০-৬০০ টাকা, ভোজালি ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং হাড় কাটার জন্য চাইনিজ কুড়াল ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এসব সরঞ্জাম কেজি হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে। পশুর তেল ছাড়ানোর জন্য প্রতি পিস স্টিলের দাম ৮০-৯০ এমনকি ১০০-১২০ টাকা, শিল-পাথর বঁটিতে ধারের যন্ত্র ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এফএইচ/এএমএ

