কবি জীবনানন্দ দাশকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেতা খায়রুল বাসারকে। তার ভাষায়, জীবনানন্দ দাশের মতো গভীর ও জটিল একজন মানুষকে ধারণ করা একজন অভিনেতার জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ।
খায়রুল বাসার বলেন, ‘সামান্য একজন অভিনেতা হিসেবে জীবনানন্দ দাশকে বিশ্লেষণ ও প্লে করা খুবই কঠিন। আমার চেষ্টা ছিল, বাকিটা তার প্রতি আমার প্রেম ও ভালোবাসা। তার কবিতা পড়ে যেভাবে রিলেট করা যায়, সেখান থেকেও প্রচেষ্টার কমতি রাখিনি।’
তিনি জানান, নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল চরিত্রটি নিয়ে বিস্তর বিশ্লেষণ করেছেন। চিত্রনাট্যে জীবনানন্দ দাশকে গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পরিচালক ও টিমের সঙ্গে নিয়মিত বসে চিত্রনাট্য পড়া, দৃশ্য বিশ্লেষণ এবং চরিত্রের ব্যাখ্যাকে অর্থপূর্ণ করে তোলার কাজ করেছেন তারা।
খায়রুল বাসারের ভাষায়, ‘দীর্ঘ সময় আমরা রিহার্সেল করেছি। ব্লকিং করে করে আগিয়েছি। কোন শট কোন লেন্সে নেওয়া হবে, দৃশ্য কীভাবে দেখানো হবে-সব কিছু পরিকল্পনা করে কাজ করেছি। পুরো বিষয়টি ভিডিও করেও রাখা হয়েছে। ঠিক সেই অভিনয়টাই দর্শক চলচ্চিত্রে দেখতে পাবেন।’
তিনি মনে করেন, চরিত্রটিকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে এই দীর্ঘ প্রস্তুতি তাকে অনেক বেশি সহায়তা করেছে।
বর্তমান সময়ে এ ধরনের দীর্ঘ রিহার্সেলের চর্চা খুব একটা দেখা যায় না বলেও উল্লেখ করেন অভিনেতা। তিনি জানান, চলচ্চিত্রটির জন্য প্রায় তিন মাস রিহার্সেল করা হয়েছে। যদিও শুটিং শেষ হওয়ার কথা ছিল দেড় মাসে, তবে নানা কারণে তা গড়িয়েছে প্রায় দেড় বছর।
খায়রুল বাসার বলেন, ‘চিত্রনাট্য অনুযায়ী যেসব লোকেশন দরকার ছিল, সেগুলো সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না। উজ্জ্বল ভাই কোনো জায়গায় ছাড় দিতে চাননি। পরে সিলেট, নাটোর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা ও পদ্মার চরসহ বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করেছি। তারপরও কিছু পারফেক্ট লোকেশন পাওয়া যায়নি।’
আরও পড়ুন:
‘তুমি ছাড়া আমার জীবনে আর ঈদ আসে না’, মাকে নিয়ে আবেগঘন শুভ
কোরবানির গোশত কাটছেন অপু বিশ্বাস, ভিডিও ভাইরাল
তিনি আরও জানান, এটি একটি থিওরিটিক্যাল ধাঁচের চলচ্চিত্র হওয়ায় পুরনো স্থাপত্য ও নির্দিষ্ট আবহের লোকেশন প্রয়োজন ছিল। অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া, সেট নির্মাণ ও আর্ট ডিরেকশনের কাজ নতুন করে করতে হয়েছে। আর এসব কারণেই চলচ্চিত্রটির নির্মাণে অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
এমএমএফ

