ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যানজটে পড়তে হয়। বাড়তি যানবাহনের চাপ, সড়ক দুর্ঘটনা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। ঈদুল আজহায় উপলক্ষে এবারও উদ্বেগ ছিল ঘরমুখো মানুষে মাঝে। তবে উদ্বেগের মাঝে এবারের যাত্রা স্বস্তিতে হচ্ছে।
ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। চিহ্নিত করা হয়েছে ২৫টি যানজটপ্রবণ এলাকা। এসব এলকার বিভিন্ন স্থানে তৎপর রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। তারা বলছেন মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে এবার শঙ্কা নেই।
সোমবার (২৫ মে) থেকে টানা সাত দিন ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। তবে ঈদ যাত্রায় উদ্বেগ থাকলেও মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত মহাসড়কে ঈদ যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। যানবাহনের চাপ বাড়লেও কুমিল্লার অংশ সরেজমিন ঘুরে কোথাও যানজট দেখা যায়নি।

তিশা পরিবহনের যাত্রী আবুল খায়ের জানান, মহাসড়কে ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঈদ ছাড়া বছরের অন্য সময়ে যে ভোগান্তিতে পড়তে হয় আজ এমন কিছু হয়নি। বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে দেড়টায় জাঙ্গালিয়া স্ট্যান্ডে নেমেছি। আমরা চাই সারা বছর মহাসড়ক এমন থাকুক। হাইওয়ে পুলিশ চাইলে রাখতে পারে, তা প্রমাণ করে দিয়েছে।
সূত্র মতে, মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা, গৌরীপুর বাজার, বুড়িচংয়ে নিমসার বাজার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, ক্যান্টনমেন্ট মোড় ও চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় যানজট প্রায় লেগে থাকে। এছাড়া এ সড়কে দুর্ঘটনায় শিকার গাড়ি সরাতে দেরি হলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে যানজট। যার কারণে নারী-শিশু যাত্রীসহ রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে পড়তে হয় বিপাকে। সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে জেলার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের আটোগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী ও পশু বহনকারী গাড়ি ডাকাতের কবলে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, অধিক যানজটপ্রবণ ১২ স্থানকে চিহ্নিত করে এসব এলাকায় কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দির বলদাখাল বাসস্ট্যান্ড, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড, চান্দিনার মাধাইয়া বাজার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, নিমসার বাজার ও ইউটার্ন, ক্যান্টনমেন্ট মোড় (উভয়মুখী), আলেখারচর বিশ্বরোড, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, মিয়াবাজার উভয়লেন এবং ফেনীর লালপোল, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী পয়েন্ট, ফৌজদারহাট ইউটার্ন ও সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড। এ ছাড়াও কম ঝুকিপূর্ণ ১৩ স্থান চিহ্নিত করে সেসব এলাকায়ও সতর্ক দৃষ্টি ও নজরদারির বাড়ানো হয়েছে।
মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক চালক জানান, চালকের আর টোল প্লাজার লোকের কারণেও ভোগান্তি হয়। ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ চালক যেখানে সেখানে যত্রী উঠা-নাম করায়। টোল আদায়ে ধীরগতি হলেও যানজট বাড়ে। এছাড়া মহাসড়কে কোনো পরিবহন নষ্ট বা দুর্ঘটনায় শিকার হলে এবং তা উদ্ধারে দেরি হলেও যানজট দীর্ঘ হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগ কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মিজানুর রহমান বলেন, দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটা টার্মিনালও নেই। যার কারণে বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে যাত্রী উঠা-নামা করাতে হয়।

আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাফর উদ্দিন বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু হোন্ডা, কিছু কার, মাইক্রো, বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সিএনজি, টমটম, নসিমন কিন্তু হাইওয়েতে উঠে। এগুলার কারণে হাইওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।
কুমিল্লা ট্রাক-লরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তুহিন বলেন, রোডে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। রাতে রড মারে, গাড়ির ভেতরে ডাকাতি করে, তারপর ড্রাইভারদের খুব কষ্টে দেয়। হাইওয়ে পুলিশের কাছে অনুরোধ ডাকাত চিহ্নত করে নির্মূল করুন।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যেসব স্থানে যানজট হয়, সেসব স্থানে স্টেট ফোর্স মোতায়েন করে যাত্রা নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নিয়েছি। ছোট যানবাহন বা থ্রি-হুইলার মহাসড়কে যাতে না আসতে পারে সে ব্যাপারে কঠোরভাবে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে শুধু কুমিল্লা রিজিয়নে চাঁদাবাজি বন্ধ ও জনদুর্ভোগ ঠেকাতে সাড়ে ৯০০ পুলিশ কাজ করছে। এছাড়াও সোমবার থেকে দুই শতাধিক রোভার স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবক মহাসড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এবার মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই।
জাহিদ পাটোয়ারী/এএইচ/জেআইএম

