গরমের দিনে স্বস্তির বাতাস পেতে কুলার এখন অনেকের ঘরেরই ভরসা। এসির মতো ব্যয়বহুল না হলেও কুলার চালালেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই ঘোরে। বিশেষ করে দিনে ৮ ঘণ্টা নিয়মিত কুলার চালালে সেটা কি সত্যিই সাশ্রয়ী থাকে, নাকি খরচ বেড়ে যায়? এই হিসাবটা জানলেই বোঝা যাবে গরমে আরামের সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচের ভারসাম্যটা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।
দিনে ৮ ঘণ্টা কুলার চালালে মাসে কত বিদ্যুৎ খরচ হবে এটা বোঝার জন্য আগে জানতে হয় কুলারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ (ওয়াট), ব্যবহারের সময় এবং বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম। সাধারণভাবে বাজারে থাকা একটি মাঝারি কুলারের ক্ষমতা প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ওয়াটের মধ্যে থাকে। এই হিসাব বোঝার সুবিধার জন্য আমরা ধরতে পারি কুলারের ক্ষমতা ১৫০ ওয়াট বা ০.১৫ কিলোওয়াট।
এখন যদি কুলারটি দিনে ৮ ঘণ্টা চালানো হয়, তাহলে দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ হবে ০.১৫ কিলোওয়াট × ৮ ঘণ্টা = ১.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১.২ ইউনিট। এইভাবে ৩০ দিনে মোট খরচ দাঁড়ায় ১.২ × ৩০ = ৩৬ ইউনিট বিদ্যুৎ।
এবার এই ৩৬ ইউনিটের সঙ্গে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম গুণ করলে মাসিক খরচ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে গড়ে ইউনিট প্রতি দাম প্রায় ৮ থেকে ১২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সেই হিসেবে মাসে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৮৮ টাকা (৮ টাকা হিসেবে) থেকে ৪৩২ টাকা (১২ টাকা হিসেবে) পর্যন্ত।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। কারণ কুলারের ওয়াট যদি বেশি হয়, গরমের সময় বেশি স্পিডে চালাতে হয়, বা পানি পাম্প ও ফ্যান একসঙ্গে বেশি সময় ধরে চলে তাহলে বিদ্যুৎ ব্যবহারও বেড়ে যায়। তখন মাসিক বিল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার কাছাকাছিও যেতে পারে।
অন্যদিকে এসির সঙ্গে তুলনা করলে কুলার অনেক বেশি সাশ্রয়ী। একই ৮ ঘণ্টা ব্যবহারে এসির খরচ কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যেখানে কুলারে সেটা সাধারণত কয়েকশ টাকার মধ্যেই থাকে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএসকে

