‘মায়ের সম্মান-সমাজের গর্ব’ স্লোগানকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক প্রাণবন্ত ও আবেগঘন আয়োজনে ১০ জন সফল বাংলাদেশি মায়ের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দিয়েছে অ্যাম্পাওয়ারিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ইডিপি)।
আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষে ব্রুকলিনের একটি মিলনায়তনে সম্প্রতি উৎসবমুখর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুধীজনের উপস্থিতিতে এক মিনি বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল ‘তিন প্রজন্ম-তিনজনই সফল মা, তিনটি আলোকিত জীবন’ শীর্ষক বিশেষ সম্মাননা। এই পর্বে ব্রংক্স কমিউনিটি বোর্ড ৯-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদারের শাশুড়ি, স্ত্রী ও মেয়ের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সব প্রবাসীকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

প্রথম প্রজন্ম (শাশুড়ি): সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ মা রোকেয়া ভূঁইয়া, যিনি তার আদর্শ ও ত্যাগের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দ্বিতীয় প্রজন্ম (স্ত্রী): তার মেয়ে রেক্সোনা মজুমদার, যিনি একজন সফল মা হিসেবে নিজের দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করে আমেরিকার মূলধারায় অ্যাটর্নি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তৃতীয় প্রজন্ম (মেয়ে): নাতনি নাসরিন এ মজনু, যিনি চার সন্তানের জননী এবং নিউইয়র্ক স্টেটের একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্বনামধন্য ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। মাতৃত্ব ও পেশাগত সাফল্যের এই অনন্য সমন্বয় প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশীদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান ও আদর্শ মাতৃত্বের জন্য আরও সাতজন প্রবাসী মাকে সম্মানিত করা হয়। তারা হলেন— ফাল্গুনী ববি, ফেরদৌসী আলম, রিফাত সুলতানা, অনুরাণী মুৎসুদ্দী, নূরজাহান, মাসুদা আলী এবং রাহেলা আক্তার। উপহার গ্রহণের পর মায়েরা প্রবাসের মাটিতে এমন ব্যতিক্রমী মূল্যায়নের জন্য ইডিপি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

আমেরিকায় নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ধরে রাখায় সব্যসাচী কবি ও সাহিত্য একাডেমি ‘সাজুফতা’-র প্রতিষ্ঠাতা জুলি রহমান-কে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুই মেয়েকে সুশিক্ষিত করা এবং বর্তমানে ইডিপির মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রযুক্তি শিক্ষায় অবদান রাখায় এমবিবিএস ডাক্তার কানিজ ফাতেমা-কেও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে মায়েদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন ইডিপির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আম্বিয়া বেগম (অন্তরা) এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ইডিপি সভাপতি এম এস আলম।

ইডিপির প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল্লাহ যুবায়েরের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির অফিস ব্যবস্থাপনায় ছিলেন আহসান বাচ্চু। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক শহীদ উল্লাহ কাইছার, প্রফেসর সৈয়দ আজাদ ও ওবায়দুল হক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসের কর্মব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের মধ্যেও বাংলাদেশি মায়েরা যেভাবে পরিবার আগলে রেখে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ ও পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক মা দিবসে ইডিপির এই উদ্যোগ প্রবাসী কমিউনিটিতে মায়েদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এমআরএম

