Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Home‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা’— কলমাকান্দা থানার ওসির বক্তব্য ভাইরাল

‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা’— কলমাকান্দা থানার ওসির বক্তব্য ভাইরাল

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের এক বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে তাকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা গেছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার (৩০ মে) ওই অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‌‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকবো। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

ওই রেকর্ডে ওসি আরও বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল (সা.) তারে সাফায়েত করবেন না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’

আরও পড়ুন
রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ-হাসনাত ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন 
রাজস্ব তহবিল থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ মাহমুদ 

ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলবো না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানলো না! আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’

তবে, ভাইরাল হওয়া বক্তব্যটির অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষার সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি জাগো নিউজ।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া অডিওতে থাকা বক্তব্য তার নয়। কীভাবে এ ধরনের অডিও প্রচার হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ৫ মে চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড় করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ঘুষের দর-কষাকষির একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় কলমাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তৎকালীন ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়।

এইচ এম কামাল/কেএসআর