আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সুসংবাদ পাওয়ার আশার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।
সামনে বাজেট আসছে। বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিশেষ কি থাকছে? জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আমরা আশা করছি রিনিউয়েবল এনার্জির (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) ক্ষেত্রে হয়তোবা সুসংবাদ পাবো সবাই এবং সেটা প্রয়োজন আমরা মনে করছি।’
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে, এটি কোন পর্যায়ে আছে, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে বার্ক (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) এটা নিয়ে কাজ করে, আমরা কাজ করি না। এটা হচ্ছে ব্যাপার। এখানে প্রপোজাল তো অনেক কিছুই থাকতে পারে কিন্তু দিন শেষে একটা শুনানি হয়, সেই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে এটা চূড়ান্ত হয়। বার্কের যে ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল সেই ক্ষমতা তো আমরা আবার ফিরিয়ে দিয়েছি, পার্লামেন্টে আপনারা দেখেছেন। সো হোয়াট দেয় আর ডুইং টিল নাও কোনো ডিসকাশন আসলে তাদের সঙ্গে আমাদের এখন পর্যন্ত হয়নি।’
আচ্ছা একটা বিষয় বলা হচ্ছে যে, এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৭ শতাংশ দাম কমেছে, ওই সময় আপনারা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন, এ বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই আপনি বলতেই পারেন। কিন্তু এ কথা তো কেউ বলছে না যে যখন জ্বালানি তেলের মূল্য শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল তখনও সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। সরকারের এটাতে একটা বাজেট ব্যবস্থাপনা আছে।’
আপনারা কি বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন? এ বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে আমি খুব স্পষ্ট করে একটি কথা বলতে চাই- আমরা ১৮০ দিনের যে প্ল্যান নিয়েছি আপনারা যদি আমাদের স্টেপসগুলো দেখেন তাহলে আপনারা বুঝবেন যে আসলে আমরা স্বাবলম্বী হতে চাচ্ছি। আমাদের স্টেপসগুলো যদি আপনারা ফলো করেন তাহলে আপনি দেখবেন যে আসলে এই ভর্তুকিগুলো একদিকে যেমন কমিয়ে আনার একটা প্রশ্ন আছে, অপরদিকে জনদুর্ভোগ কমানোর একটা ব্যাপার আছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা ভর্তুকি প্রশ্নগুলো কেনো আসলো? ভর্তুকির প্রশ্ন তো আসলো যে উচ্চ দামে আমি বিদ্যুৎ কিনছি। তাহলে উচ্চ মূল্যের এই পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোকে যদি আমরা আস্তে আস্তে রিনিউয়েবল এনার্জি দিয়ে রিপ্লেস করতে পারি তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমে গেলে আমার সরকারের ভর্তুকিও যেমন কমবে গ্রাহকেরও কিন্তু আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে পারবো। তো সেই পরিকল্পনাগুলো রয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে দুটো এফএসআরইউ রয়েছে, প্রয়োজন হলে কত দ্রুত আমরা তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এফএসআরইউ ইনস্টল করতে পারি, সে ব্যাপারে কিন্তু আমরা কাজ করছি। আপনারা খুব অচিরেই এই পরিবর্তনগুলো দেখবেন।’
বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই কমবেশি ঈদটা স্বস্তির কেটেছে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে যদি আপনি আমাকে বলেন আমি খুব স্বস্তি অনুভব করিনি। কেন করিনি? যাদেরকে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ, সেটা হয়তোবা একটা তৃপ্তি এনেছে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় তো ঈদের আগে, ঈদের সময় এবং ঈদের পরে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তো আসলে আমার পল্লী বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই লাইন মেরামত করতে যেয়ে আমাদের তো একটু লম্বা সময় লেগে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মধ্যে এই অস্বস্তি এবং অতৃপ্তি কাজ করেছে যে ঈদের ছুটিতে কিছু কিছু জায়গায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আসলে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহটা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পারিনি। তো এটাও কিন্তু আমাদের একটা মনস্তাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আরএমএম/এসএনআর

