Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeবিশ্বকাপ শুরুর আগেই যে রেকর্ড গড়ে বসলেন রোনালদো

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যে রেকর্ড গড়ে বসলেন রোনালদো

বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাকি। কোন দল কেমন করবে, কোন ফুটবলার মাঠ মাতাবেন- এসব আলোচনায় বুঁদ হয়ে যাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে, ভিন্ন একটি ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রেকর্ড গড়ে বসলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

মাঠের ভেতরে তিনি রেকর্ড গড়েছেন অসংখ্যবার। এবার মাঠের বাইরেও নতুন ইতিহাস গড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ডের একটি বিরল ‘১-অব-১’ ট্রেডিং কার্ড বিক্রি হয়েছে রেকর্ড গড়া ৯ অঙ্কের বিশাল মূল্যে, যা আবারও প্রমাণ করল- ফুটবল বিশ্বের বাইরেও রোনালদোর জনপ্রিয়তা কতটা বিস্ময়কর।

রোনালদোর কার্ড বিক্রি সাড়ে ১৬ কোটি টাকায়

রোনালদোর ২০১৮ সালে, জুভেন্টাসে খেলার সময় সবুজ রঙের ‘পানিনি কাবুম’ ১-অব-১ নম্বরযুক্ত কার্ডটি ২৪ মে বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে (প্রায় ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকায়)। ফ্যানাটিকস কালেক্টের মাধ্যমে হওয়া এই বিক্রির তথ্য নিশ্চিত করেছে ইএসপিএন।

কার্ডটিতে রোনালদোকে দেখানো হয়েছে জুভেন্টাসে খেলার সময়কার জার্সিতে। ফুটবল স্মারক সংগ্রহের জগতে এই বিক্রিকে বড় এক মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এই পানিনি কার্ডটি এখনও পর্যন্ত রোনালদোর অন্য যে কোনো কার্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রিমূল্য। শুধু তাই নয়, ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দামি কার্ডের তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শীর্ষে আছে লিওনেল মেসির রুকি কার্ড, যা বিক্রি হয়েছিল ১৫ লাখ ডলারে (প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা)। আর তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে পেলের রুকি কার্ড, যার মূল্য ছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সেটিই ছিল ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ১০ লাখ ডলার ছোঁয়া কার্ড।

আগের রেকর্ড ভেঙে তিনগুণ মূল্য

এর আগে রোনালদোর সবচেয়ে দামি কার্ড ছিল ২০১৫ সালের ‘পানিনি ফ্ললেস ফিনিশেস ব্ল্যাক’ ১-অব-১ কার্ড। সেটি ২২ মে ফ্যানাটিকস প্রিমিয়ার নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারে। কার্ডটি পিএসএ থেকে পেয়েছিল ৭ গ্রেড এবং অটোগ্রাফের জন্য পেয়েছিল সর্বোচ্চ ১০ গ্রেড।

মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে নতুন ‘গ্রিন কাবুম’ কার্ডটি আগের রেকর্ডকে তিনগুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে- কার্ডটি খুবই বিরল।

কেন এত বিশেষ ‘গ্রিন কাবুম’ কার্ড?

২০১৮ সালের ‘পানিনি কাবুম’ সেট ছিল ৫০ খেলোয়াড়ের একটি মাল্টিস্পোর্ট সিরিজ। এটি সাধারণ বাজারে ছাড়া হয়নি, বরংপানিনি রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামের মাধ্যমে সীমিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল। ‘কাবুম’ কার্ড প্রথম তৈরি হয় ২০১৩ সালে। তবে ২০১৮ সালে পানিনি প্রথমবার যুক্ত করে ‘গ্রিন ১-অব-১’ সংস্করণ, যা পরে সংগ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ডিজাইনের একটিতে পরিণত হয়।

কার্ডটির পেছনের গল্প

যিনি কার্ডটি কিনেছেন, তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিক্রেতা ছিলেন ‘চেরাবকার্ডস’ নামের এক সংগ্রাহক, যিনি ২০২৪ সালের মার্চে কার্ডটি সংগ্রহ করেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘২০১৮ পানিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গ্রিন কাবুম ১/১ পিএসএ ১০ বিক্রি হয়েছে। আমি বাকরুদ্ধ। কোবি ব্রায়ান্টের গ্রিন কাবুম কার্ডের পাশে রাখার জন্য এই কার্ডটি সংগ্রহ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছি। দুজনই অসাধারণ অ্যাথলেট, যারা অবিশ্বাস্য।’

তিনি আরও জানান, কার্ডটির অবস্থা নিখুঁত করতে বড় ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ‘আমার বন্ধু @pats_pulls অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। বিগিএস ৯.৫ থেকে এটি পিএসএ ১০ গ্রেডে উন্নীত করেছে। এটি আমার প্রথম সিআর৭ ১-অব-১ কার্ড এবং আমার সংগ্রহের অন্যতম সেরা কার্ড।’

রোনালদোর জুভেন্টাস অধ্যায় নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন, ‘সময় প্রমাণ করবে, জুভেন্টাসে রোনালদোর ক্যারিয়ারও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের সময়ের মতোই সম্মানের দাবিদার। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পাননি তিনি, আর প্রতিটি চ্যালেঞ্জ জয় করেছেন।’

মাঠেও এখনও দুর্দান্ত রোনালদো

৩৯ বছর বয়সেও মাঠে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন রোনালদো। আল নাসরের হয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অভিষেকের পর এবারই প্রথম সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। গত সপ্তাহেই পর্তুগালের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই এখনও বাণিজ্যিক মূল্যেও শীর্ষে আছেন তিনি।

মেসির সঙ্গে ব্যবধান কমাচ্ছেন রোনালদো

লিওনেল মেসির কার্ড গত আগস্টের পর থেকে অন্তত সাতবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। তবে রোনালদোও দ্রুত সেই ব্যবধান কমিয়ে আনছেন। কারণ, ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি হওয়া রোনালদোর ইতিহাসে মাত্র দুটি কার্ড আছে- আর দুটিই বিক্রি হয়েছে গত এক সপ্তাহে।

এতে ধারণা করা হচ্ছে, সিআর-৭ সংগ্রাহকদের জন্য হয়তো শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন যুগ।

আইএইচএস/