Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

হাটহাজারীতে নাশকতা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার নাশকতা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭। সোমবার (৪ মে) রাতে নগরের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা...
Homeমোদির স্বপ্ন ভেঙে সরকার গঠন করতে পারবেন থালাপতি বিজয়?

মোদির স্বপ্ন ভেঙে সরকার গঠন করতে পারবেন থালাপতি বিজয়?

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে সুপারস্টার বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেকই যেন হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চমক। প্রথমবার নির্বাচনে এসেই বাঁশি মার্কায় যে সুর তুলেছেন বিজয় তাতে বিমোহিত তামিলনাড়ুর জনগণ। সেই প্রমাণ ভোটের বাক্সে মিলেছে। এখন অপেক্ষা, বিজেপি শাসিত ভারতের নরেন্দ্র মোদির স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে থালাপতি বিজয় সরকার গঠন করতে পারেন কি না।

২০২৪ সালে দল গঠন করেই বিজয় সরাসরি মোদি সরকারের সমালোচনা করে আসছেন। সেটি দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য ‘মাথাব্যথা’র কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। নানাভাবে বিজয়কে থামানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। মোদির বিজেপি দল মূলত হিন্দুত্ববাদ ও কেন্দ্রীকরণের রাজনীতি করে। কিন্তু বিজয়ের দল ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায় ও বামপন্থার আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে। তামিলনাড়ুর মাটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই আদর্শগুলো মোদীর কেন্দ্রীয় নীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, টিভিকের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো এবং লাখো মানুষের সমর্থন মোদীর রাজনীতির বিরূদ্ধে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলো বিজয়ের চমক জাগানিয়া উত্থানে।

বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। অর্থাৎ মাত্র ১১টি আসনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় এই ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বৃহত্তম দল হওয়ায় টিভিকে-কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে এমন সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সরকার হিসেবেও যাত্রা শুরু করতে পারে বিজয়ের দল।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, বাইরের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী। বিশেষ করে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম-ঘনিষ্ঠ জোটের কয়েকটি দল কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এম) ও ভিসিকে সম্ভাব্য সমর্থক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। অতীতে ২০০৬ সালে ডিএমকের সংখ্যালঘু সরকারও এমন সমর্থন নিয়েই টিকে ছিল।

এছাড়া পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি (পিএমকে)-র পাঁচটি আসন টিভিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ দলটি ইতোমধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে জোটে রয়েছে। তাদেরকে বিজয় তার আদর্শগত প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক তিক্ততা ও ব্যর্থ আলোচনার কারণে এআইএডিএমকে-টিভিকে জোটের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের সামনে এখন একমাত্র পথ – জোট রাজনীতি।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও সরকার গঠনের দৌড়ে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন থালাপতি বিজয়। তিনি কি শেষ পর্যন্ত জোট গড়ে সরকার গঠন করতে পারবেন, নাকি তামিলনাড়ুতে সৃষ্টি হবে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি-সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

এলআইএ