Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

চট্টগ্রামে বসতঘরে মিললো ১২ ফুট লম্বা অজগর

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার এক বসতঘর থেকে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বার্মিজ প্রজাতির অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ...
Homeমোদীকে ‘গুন্ডা’ বলায় গ্রেফতার: মুসলিম বৃদ্ধকে মারধর, কানও ধরালো পুলিশ

মোদীকে ‘গুন্ডা’ বলায় গ্রেফতার: মুসলিম বৃদ্ধকে মারধর, কানও ধরালো পুলিশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক মুসলিম বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর প্রদেশের মিরাট থেকে এহসান নামে ওই বৃদ্ধকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, একই দিনে অন্য একটি সম্প্রদায়ের যুবকের অপরাধকে পুলিশ হালকাভাবে ছেড়ে দেওয়ায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

ভাইরাল সাক্ষাৎকার ও বিতর্কিত মন্তব্য

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন স্থানীয় নিউজ চ্যানেল ‘ট্রু ভারত’কে একটি সাক্ষাৎকার দেন বৃদ্ধ এহসান। সাক্ষাৎকার চলাকালে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘গুন্ডা মুখ্যমন্ত্রী’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

এরপর সাংবাদিক যখন তাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, তখন ক্ষোভ প্রকাশ করে এহসান বলেন, মোদী হলেন এদের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় গুন্ডা’।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক মোদীকে ‘মহারাজা’ (রাজা) হিসেবে উল্লেখ করলে এহসান পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘মহারাজা কোথা থেকে এলো? ও তো গুন্ডা। আরে, ও তো সবচেয়ে বড় গুন্ডা।’ এ সময় ভারতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বাধ্যবাধকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হচ্ছে বন্দে মাতরম গাইতে। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, এই যোগী কি আল্লাহর চেয়েও বড়?’

এই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপরই নড়েচড়ে বসে মিরাট পুলিশ। সাংবিধানিক পদের অবমাননা ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ২৯ মে এহসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেদিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে পুলিশের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওই বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং খুঁড়িয়ে হাঁটা ওই বৃদ্ধ নিজের দুই কান ধরে রয়েছেন।

পুলিশের ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে বিতর্ক

এই ঘটনার পর মিরাট পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বেছে বেছে’ ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও বাসিন্দারা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে দ্বিমুখী আচরণের প্রশ্ন তুলছেন।

জানা গেছে, এহসানকে গ্রেফতারের দিনই মিরাটে পুনিত নামের এক হিন্দু যুবক এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যে নিজের বাড়ির সামনে মাংসের ব্যাগ রেখে পুলিশে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, পুনিত নিজেই ওই ব্যাগটি সেখানে রেখেছিলেন এবং পুরো বিষয়টি তার সাজানো নাটক ছিল।

তবে সিসিটিভিতে জালিয়াতি ধরা পড়ার পরও পুলিশ পুনিতকে কোনো মামলা বা গ্রেফতার ছাড়াই কেবল একটি মৌখিক সতর্কতা দিয়ে ছেড়ে দেয়।

সূত্র: মুসলিম মিরর, সিয়াসাত ডেইলি
কেএএ/