Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeশিক্ষা ও সচেতনতাই পারে থাইরয়েড ঝুঁকি কমাতে

শিক্ষা ও সচেতনতাই পারে থাইরয়েড ঝুঁকি কমাতে

বর্তমান সময়ে থাইরয়েডজনিত সমস্যা নীরবে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, মানসিক চাপ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে অনেকেই দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেন না যে তারা থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন। অথচ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন শিক্ষা, সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর। কারণ সচেতন মানুষই পারে থাইরয়েডের ঝুঁকি কমিয়ে সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে। এবারের বিশ্ব থাইরয়েড দিবসের প্রতিপাদ্য – ‘অ্যাওয়ারনেস থ্রু এডুকেশন’, অর্থাৎ- ‘শিক্ষার মাধ্যমে সচেতনতা’।

থাইরয়েড কী?

থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির একটি গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা ও মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।

থাইরয়েড রোগের প্রধান কারণ

  • আয়োডিনের ঘাটতি: দীর্ঘদিন আয়োডিনের অভাবে গয়টার বা থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় এখনও অনেক মানুষ পর্যাপ্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করেন না।
  • বংশগত কারণ: পরিবারে কারও থাইরয়েড সমস্যা থাকলে অন্য সদস্যদের ঝুঁকি বাড়ে।
  • অটোইমিউন রোগ: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে।
  • মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন: অতিরিক্ত স্ট্রেস, ঘুমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
  • গর্ভাবস্থা ও নারীদের হরমোন পরিবর্তন: নারীরা তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হন। গর্ভকাল ও মেনোপজে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যদূষণ: রাসায়নিক ও বিষাক্ত উপাদানও থাইরয়েডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

থাইরয়েড রোগের লক্ষণ

হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কমে যাওয়া)

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • ওজন বেড়ে যাওয়া
  • ঠান্ডা বেশি লাগা
  • চুল পড়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • বিষণ্নতা
  • মুখ ও শরীর ফুলে যাওয়া

হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেড়ে যাওয়া)

  • দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
    অতিরিক্ত ঘাম
    হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
    হাত কাঁপা
    অস্থিরতা ও অনিদ্রা
    অতিরিক্ত ক্ষুধা

শিশুদের ক্ষেত্রে

  • শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
  • পড়াশোনায় দুর্বলতা
  • মানসিক বিকাশে সমস্যা

আরও পড়ুন: 

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হলেও অনেকেই তা জানেন না। নারীদের মধ্যে রোগের হার তুলনামূলক বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামে রোগ শনাক্তকরণ কম হয়।

প্রধান সমস্যা

সচেতনতার অভাব, নিয়মিত পরীক্ষা না করা, ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত থাইরয়েড পরীক্ষা সুবিধা নেই। অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নেন।

উত্তরাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি কেন?

কিছু এলাকায় এখনও পুষ্টিহীনতা ও আয়োডিন ঘাটতির সমস্যা রয়েছে। দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব রোগ বাড়াচ্ছে।

বাস্তব চিত্র

  • গ্রামীণ নারীদের মধ্যে গয়টার ও থাইরয়েড সমস্যার হার উল্লেখযোগ্য।
  • অনেক রোগী কবিরাজি বা অপচিকিৎসার ওপর নির্ভর করেন।
  • বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও পরীক্ষাগার সুবিধা সীমিত।

করণীয়

  • জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থাইরয়েড স্ক্রিনিং বাড়ানো
  • স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা
  • স্কুলভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি বৃদ্ধি করা

প্রয়োজন

  • পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যশিক্ষা
  • নারীদের বিশেষ সচেতনতা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

গণমাধ্যমের ভূমিকা

সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্ব অনেক। কারণ তারাই মানুষের মধ্যে দ্রুত স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের করণীয়- টেলিভিশনে স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচার, সংবাদপত্রে সচেতনতামূলক ফিচার প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যভিত্তিক ক্যাম্পেইন ও গ্রামীণ জনগণের জন্য সহজ ভাষায় প্রচারণা। অপচিকিৎসা ও ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো।

সরকারের ভূমিকা

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে থাইরয়েড সচেতনতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা সুবিধা বাড়াতে হবে। এছাড়া বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে থাইরয়েড পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ন্ত্রণ, স্কুল স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে থাইরয়েড বিষয় অন্তর্ভুক্তি করা। একই সঙ্গে, জাতীয়ভাবে সচেতনতা অভিযান চালু করা, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

থাইরয়েড এখন নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তবে সচেতনতা, শিক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়-শিক্ষিত ও সচেতন সমাজই পারে সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়তে। আসুন, আমরা সবাই জানি, অন্যকে জানাই এবং থাইরয়েড সম্পর্কে সচেতন সমাজ গড়ে তুলি।

জেএস/