ঢাকার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার পর এবার সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল আসামি গ্রেফতার করতে না পারা ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে তাকে মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিকালে বলেন, এখনো লিখিত আদেশ পাইনি। তবে মৌখিকভাবে প্রশাসনিক কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূলত পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানতে পেরেছি।
এর আগে, সাংবাদিকদের ওেপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মো. শামীম রেজার (৩৫) সঙ্গে সখ্য ও যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগে সাভার মডেল থানা পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন মনিরুল কাইয়ুমসহ দেশ টিভির প্রাইভেটকার চালক জয়নাল।
হামলাকারীরা এসময় তাদের দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধরের পাশাপাশি এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম ও দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তুহিনকে ছুরিকাঘাত করে। পরে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে।
এর আগে সম্প্রতি শামীমের মাদক সিন্ডিকেট ও প্রভাব নিয়ে এসএ টিভিতে একাধিক রিপোর্টও প্রকাশ করেন সাদ্দাম। সেসময় তার প্রথম রিপোর্টটি প্রকাশের পর র্যাবের পক্ষ থেকে শামীমের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সেসময় শামীমকে না পেলেও শামীমের আস্তানার আশপাশ থেকে তিনজনকে বিভিন্ন মাদক ও বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে র্যাব। এরপর আবারও শামীমকে নিয়ে রিপোর্ট করলে সাদ্দামের ওপর তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় শামীম সিন্ডিকেটের।
মাহফুজুর রহমান নিপু/এএইচ/এমএস

