অনেক অর্থ খরচ করে , একঝাঁক তারকা দলে ভিড়িয়েও প্রথম দিন কিংবা শুরুর দিকে হেরে বসা প্রায় রীতিতে পরিণত করেছিলো ঢাকা মোহামেডান। খুব বেশি পিছনে তাকাতে হবে না। গতবারও তারকায় ঠাসা মোহামেডান প্রথম দিনই হেরেছিল প্রিমিয়ারের নতুন দল গুলশান ক্লাবের কাছে।
তবে বেশ অনেকদিন পর এবার ঘটলো ব্যতিক্রম ঘটনা। এবার মোহামেডানের জায়গায় হার দিয়ে শুরু হলো আবাহনীর। কাগজে কলমের এক নম্বর দল মোহামেডান জয় দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করলেও পারেনি চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।
সোমবার প্রথম ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ৫ উইকেটে হেরেছে প্রিমিয়ারের এবারের নতুন দল ঢাকা লেপার্ডসের কাছে। আর সিটি ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে মোহামেডান।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা হয় ৩০ ওভারে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আবাহনী নির্ধারিত ৩০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৮১ রান। জবাব দিতে নেমে ২৯.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা লেপার্ডস।

সাব্বির রহমান রুম্মান ছাড়া আর কোনো ব্যাটারই দাঁড়াতে পারেননি। ২৯ বলে ৫৫ রান করেন রুম্মন। ২টি বাউন্ডারির পাশাপাশি ৫টি ছক্কার মার মারেন তিনি।
জিসান আলম এবং সৌম্য সরকার আবাহনীর ইনিংসের সূচনা করেন। ৪ বল খেলে একটা ছক্কা মেরে প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান জিসান আলম। সদ্য জাতীয় দলের হয়ে খেলা সৌম্য সরকারের ওপর আবাহনী সমর্থকদের আশা ছিল অনেক। কিন্তু ৬ বল খেলে তিনি পুরোপুরি হতাশা উপহার দিলেন। কোনো রানই করতে পারলেন না। ঢাকা লেপার্ডের বোলার মইন খানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন।
এরপর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও এসএম মেহেরব হোসেন অবশ্য হাল ধরার চেষ্টা করেন। দু’জন মিলে গড়েন ৬১ রানের জুটি। ৪৪ বলে ৩৮ রান করে আউট হন অঙ্কন। এস এম মেহরব হোসেন ৪১ বলে খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস।
অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৩৩ বল খেলে করেন মাত্র ১৭ রান। জাকের আলি অনিক খেলেন ৯ বলে ৪ রানের ইনিংস। শেষ দিকে এসে ঝড় তুলেছিলেন সাব্বির রহমান। ২৯ বলে ৫ ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। ৯ রান করে আউট হন মাহফুজ রাব্বি, রাকিবুল হাসান শূন্য রানে আউট হন। ১ রান করে অপরাজিত থাকেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ঢাকা লেপার্ডসের হয়ে মইন খান নেন ২১ রানে ৩ উইকেট। এছাড়া আল ফাহাদ নেন ২ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে ঢাকা লেপার্ডের ওপেনার জাকির হাসান অসাধারণ ব্যাটিং করেন। ৬৬ বলে তিনি খেলেন ৭৪ রানের ইনিংস। ৬টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারেন ৩টি। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন ৪০ বলে খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস। সৈকত আলি ২৮ ও জাওয়াদ আবরার করেন ২৩ রান। আবাহনীর হয়ে জিসান আলম নেন ২ উইকেট।
এআরবি/আইএইচএস

