Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

সাফের সেমিফাইনাল ও ভারতকে হারানো সেরা সফলতা মনে করছেন ক্যাবরেরা

  বাংলাদেশের ফুটবলের সাথে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে ৩০ এপ্রিল। বাংলাদেশের ফুটবলে সবচেয়ে বেশি সময় কোচের দায়িত্ব পালন করা এই স্প্যানিশ এখন শুধুই অতীত।...

Here’s the latest.

Homeপশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি আজ এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং জনমানসের আবেগ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার দীর্ঘ বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভাষায় অঞ্চলটিকে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতার একটি বড় অংশকে অদৃশ্য করে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে যে ধরনের বক্তব্য ও স্লোগান ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা এই বাস্তবতাকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে। ক্ষমতার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উচ্চারিত কিছু বক্তব্য, যেখানে শাসন পরিবর্তনকে তীব্র প্রতীকী ভাষায় উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা কেবল নির্বাচনি প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং এই ভাষা জনপরিসরে এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার বোধ তৈরি করছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি এবং রাজ্য রাজনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ। একদিকে কেন্দ্রীয় শক্তির দাবি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো এবং উন্নয়ন, অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভিযোগ ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং ভিন্নমতের পরিসর সংকুচিত হওয়া। এই দ্বন্দ্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও, সমস্যা শুরু হয় তখনই যখন রাজনৈতিক ভাষা সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করে।

রাজনৈতিক বক্তব্যে যখন নির্যাতন, ধ্বংস বা সম্পূর্ণ উচ্ছেদের মতো শব্দ ব্যবহৃত হয়, তখন তা কেবল মতবিরোধের প্রকাশ থাকে না। বরং তা জনমানসে ভয়, বিভাজন এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে। গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নির্বাচন বা ক্ষমতার পালাবদলে নয়, বরং মতপার্থক্যকে স্থিতিশীল সামাজিক কাঠামোর মধ্যে রাখার সক্ষমতায় নিহিত।

এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই রাজ্যটি ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস এবং পারিবারিক সম্পর্ক দুই পাশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের অবিচ্ছিন্ন সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ফলে এখানকার রাজনৈতিক ভাষা কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকে না, এটি সীমান্তের ওপারেও প্রতিফলিত হয় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে।

ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক রাষ্ট্রীয়ভাবে বহুস্তরীয় এবং বাস্তবভিত্তিক। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, নদী ব্যবস্থাপনা এবং শ্রম অভিবাসন এই সম্পর্ককে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরতা, জীবিকা এবং সাংস্কৃতিক অভিন্নতা। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক বক্তব্যকে দায়িত্বহীনভাবে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিলে তা বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে বরং নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

একইভাবে সংখ্যালঘু এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর বিষয়টি মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হওয়া উচিত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার নয়। কারণ এই ধরনের ব্যবহার সামাজিক আস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক ভাষার দায়িত্বশীলতা। গণতন্ত্র কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি সহাবস্থানের একটি নৈতিক কাঠামো। যেখানে ভিন্ন মত থাকবে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সমাজে শত্রুতা, ভয় বা বিভাজনের স্থায়ী সংস্কৃতি তৈরি না করে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা দায়িত্বশীলভাবে তাদের ভাষা এবং অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে তার ওপর। সংঘাতমুখী বয়ান নয়, বরং সংলাপ, বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বীকৃতিই একটি টেকসই আঞ্চলিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নটি কেবল রাজনীতির নয়, এটি একটি সভ্যতার প্রশ্ন। আমরা কি এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া নির্মাণ করছি যেখানে ভিন্নতা মানেই শত্রুতা, নাকি এমন একটি পরিসর তৈরি করছি যেখানে ভিন্নতা সত্ত্বেও সহাবস্থান সম্ভব, সেটিই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের আঞ্চলিক ভবিষ্যৎ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।
rahman.mridha@gmail.com

এমআরএম