Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

Iran War Live Updates: Iranian Official Warns of Escalation in Strait of Hormuz Standoff

Mohammad Bagher Ghalibaf, Iran’s top negotiator, accused the United States of violating the shaky cease-fire, after Iranian forces fired at vessels that the U.S....
Homeপাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের দোতলা ঘর, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা

পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের দোতলা ঘর, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে দুইতলা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধানে এসব ঘর নির্মাণ করা হলেও স্থানীয়ভাবে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৪ নম্বর এক্সটেনশন ‘ই’ ব্লকে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করে ইট ও লোহা দিয়ে শত শত শেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে, যা স্থায়ী অবকাঠামোর ইঙ্গিত বহন করে। এরই মধ্যে ওই এলাকায় প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং আশপাশের পাহাড় কেটে প্রায় ৮৮৮টি ঘর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব এবং উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এমনিতেই উখিয়া-টেকনাফে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাপে স্থানীয়রা বিপাকে রয়েছে। সেখানে যদি তাদের জন্য আরও শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের স্থায়ী ঘর নির্মাণ রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করবে এবং তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

‘এ ধরনের স্থায়ী ঘর নির্মাণ রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করবে এবং তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাধারণত বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইট, বালু ও লোহা ব্যবহার করে তুলনামূলক স্থায়ী ধরনের ঘর নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এভাবে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ চলতে থাকলে তা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দ্রুত এ ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, পাহাড় কাটার অভিযোগ তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন এবং বিষয়টি তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘নির্মাণাধীন এসব শেল্টার কোনো স্থায়ী কাঠামো নয় এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের অস্থায়ী প্রকৃতির কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না। এই নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত। এটি নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যৌথ মানবিক দায়িত্বের প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ইনচার্জকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন-
এবারও ক্যাম্পেই ঈদ রোহিঙ্গাদের, দেশে ফিরতে না পারার কষ্ট
১ বছরে রোহিঙ্গা বাড়লো পৌনে ২ লাখ
আশা ছিল দেশে ঈদ করার, ফিরতে পারেনি একজন রোহিঙ্গাও

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যে ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে তা স্থায়ী নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ঘরের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের দোতলা ঘর, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা আমির অধ্যক্ষ নূর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, এ ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত এ কাজ বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, পাহাড় কেটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন ঘর নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন এসব কার্যক্রম রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ সুগম করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলেন, ইউএনএইচসিআর (জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা) বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালার সঙ্গে মিল রেখে সবগুলো ক্যাম্পে শরণার্থীদের জন্য অস্থায়ী ধরনের শেল্টার নির্মাণ করে। এই শেল্টারগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে শক্তিশালী বাতাস এবং ভারী বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, শেল্টারগুলো মজবুত করতে নতুন কিছু নকশায় সর্বোচ্চ ৩ ইঞ্চি ব্যাসের স্টিল পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেওয়াল ও ছাদ ঢাকতে বাঁশ এবং প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করা হয়। পুরো কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন সহজেই খুলে ফেলা ও সরিয়ে নেওয়া যায়। কারণ স্টিল পাইপগুলো ওয়েল্ডিংয়ের বদলে নাট-বল্টুর মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়।

নির্মাণাধীন এসব শেল্টার কোনো স্থায়ী কাঠামো নয় এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের অস্থায়ী প্রকৃতির কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না। এই নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত। এটি নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যৌথ মানবিক দায়িত্বের প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সম্মান জানায়, যেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে বিবেচিত বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ও উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, কুতুপালং ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন এলাকায় পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর নির্মাণের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে ক্যাম্প ইনচার্জসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান, সহিংসতা ও রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার, উখিয়া ও ভাসানচরের ৩৪টি ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

এফএ/এএসএম