দুদিন ধরে মৌলভীবাজারের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। এতে অনেক কৃষক তাদের কাটা ধান শুকাচ্ছেন। তবে হাওরে যেসব ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে, এগুলো আর ঘরে তোলার সুযোগ নেই কৃষকের। নন হাওর এলাকা থেকে পানি কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ধান কিছুটা হলেও কাটতে পারছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ তিন হাজার ৬০০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, হাইল হাওর, কেওলার হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত। পানি কিছুটা নামতে শুরু করায় কিছু কিছু এলকায় ধান ভাসতে শুরু করেছে। তবে বেশিরভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ পর রোদের দেখা পাওয়ায় ধান শুকাতে দেখা যায় কৃষকদের।
আরও পড়ুন:
দুর্যোগ-দরপতনে দিশাহারা কৃষক
কৃষকরা জানান, জেলায় অন্তত ২০-২৫ হাজার হেক্টর পাকা ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। হাওর থেকে এসব ধান আর তোলা সম্ভব নয়।
কেওলার হাওরের কৃষক মামুন আহমদ বলেন, ‘আমার তিন একরসহ পাঁচ শতাধিক কৃষকের ধান আটদিন ধরে পানির নিচে। পানি কমে যাচ্ছে আর পচা ধান দৃশ্যমান হচ্ছে। কৃষকের এত ক্ষতি হয়েছে যা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।’
কাউয়াদিঘি হাওরের কৃষক লিপন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচ একর জমির মধ্যে মাত্র এক একর জমির ধান কাটতে পেরেছি। বাকি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুদিন ধরে রোদ থাকায় আধা পাকা কাটা ধান শুকানোর চেষ্টা করছি। তবে হাওরে ডুবে যাওয়া ধান আর ফিরে পাবো না।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলায় তিন হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। প্রায় ২০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাওরের কিছু ধান আর কাটা সম্ভব হবে না।’
মাহিদুল ইসলাম/এসআর/এমএস

