রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।
একই সঙ্গে শাপলা গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য সিপিবি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে রাজধানীর শাহবাগে শাপলা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাদা পাঞ্জাবির মিছিল’ এর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এসব দাবি তুলে ধরেন।
নাঈম আহমাদ বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ড এবং সেসময় সংঘটিত ব্লগার হত্যাকাণ্ড-উভয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, শাপলা গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে বামপন্থি সংগঠন সিপিবি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ভূমিকা ছিল এবং এজন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে শাহবাগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছিল, যা তৎকালীন সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো সংবেদনশীল ইস্যু যুক্ত থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এতে সম্পৃক্ত হন। পরে এটি ইসলামবিদ্বেষ ও ফ্যাসিবাদপন্থি আন্দোলনে রূপ নেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
নাঈম আহমাদ বলেন, এই প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মানুষ শাপলা চত্বরে সমবেত হন। কিন্তু সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে তা দমন করে। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।
গণজাগরণ মঞ্চের তৎকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার সম্পর্কে জেডিপি আহ্বায়ক বলেন, তিনি ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ হিসেবে কাজ করতেন এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসিনার জোটসঙ্গী ছাড়াও বামপন্থি কয়েকটি সংগঠন ওই সময় এ ধারার রাজনীতিতে নগ্নভাবে সহযোগিতা করেছিল, যার ফলে বাংলাদেশে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা শেখ হাসিনার পক্ষে সহজ হয়েছিল।
জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সেসময় নিহত ব্লগারদের হত্যার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। ব্লগার হত্যাকাণ্ডগুলোতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হলেও সেগুলো পুনঃতদন্তের প্রয়োজন রয়েছে, কেননা শেখ হাসিনার আমলে অনেক ভুয়া জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ তা জানতে পেরেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
এফএআর/ইএ

