আমায় ছাড়া দিব্যি কাটে তোমার
আমায় ছাড়া দিব্যি কাটে তোমার
ঘর-সংসার থালা-বাসন মাজা
তার জন্য সময় এখন আগে—
আমার কথা ভাবলে যেন সাজা।
সাজা পাচ্ছি আমি সুদের হারে
দিন যত যায় কঠিন হচ্ছে বাঁচা
তার জন্য চিন্তা তোমার আগে—
পড়ছে খসে আমার প্রেমের খাঁচা।
খাঁচা বন্দি বোকা সুখের পাখি
উড়ে কেবল তোমার ছোট নামে
তার জন্য এখন তোমার দেহ—
শীতকালেও অল্প করে ঘামে।
ঘামের ভেতর ঘ্রাণ যত থাকে
তার থেকেও বেশি ভালোবাসি
তার জন্য পিরিত রাখার পরে—
অবশিষ্ট থাকলে নিতে আসি।
****
নবীন বুকে প্রাচীন প্রেম
তোমার শ্বাসের ওঠানামা
ধৈবত সুরে সুরে কাঁপে
বুকের গড়ন অবিকল
আমার সৃজন হাত’ মাপে।
গ্রামীণ ছায়াপথ ধরে—
কাহ্নপা হেঁটে যায় ধীর
তোমার নবীনতম বুকে
টেনে দেই প্রেমের শিশির।
মায়াচোখে জল দেখে ভাবি
ঐ বুঝি দাহ কেরোসিন
এক্ষুণি পুড়ে যাবো আমি
হয়ে যাবো হাওয়াতে বিলীন।
আমার দখলে থাকা ভূমি
শুনি আজ ভিনলোকে খায়
তোমাকে প্রেমিকা ভেবে আজ
বুদ্ধও দুঃখী থেকে যায়—।
****
বিবাহ-বন্দনা
কিশোরী তখন তুমি ছিলে ছোট ফুল
বলেছিলে মৃদু শ্বাসে বিবাহ কবুল
বলেছিলে নত চোখে মধুময় স্বর
উত্তর দিতে গিয়ে জড়ালো অধর।
বলেছিলে ভালোবেসে—হবে সংসার
শরীরে শরীর রেখে কামনা অপার।
সেই সুরে নেচে ওঠে বুনো হাতিশুঁড়
বিবাহ বিবাহ করি, ঘর কতদূর?
কিশোরী তখন তুমি দেহে নব সাজ
নবীন প্রেমিক খোলে নতুনের ভাঁজ
ভাঁজে ভাঁজে ঢেউ তোলে রস-নদী আর
কাঁচা মুখে আচানক সুখ শীৎকার।
সুর ভাসে দেহময় কাঁপে দুই মন
বিবাহে কবুল ছিলে প্রেমিকা যখন!
প্রেমিকা যখন তুমি কত প্রেমময়
লুকিয়ে সবার চোখ ভাসালে আমায়।
বিবাহ তোমার আজ! পাই সংবাদ
হওয়ার বুননে ভাসে মরণের ফাঁদ
যুবতী এখন তুমি বেঁধেছো বাসর
সবকিছু ভুলে গিয়ে মুছে গেছে ঘোর!
এসইউ

