Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeঅর্ধেক ধান পানির নিচে, বাকিটুকু তুলতে বাধা ‘আকাশছোঁয়া’ নৌকার দাম

অর্ধেক ধান পানির নিচে, বাকিটুকু তুলতে বাধা ‘আকাশছোঁয়া’ নৌকার দাম

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের কৃষক লাল মিয়া। ৩০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করলেও তারমধ্যে অর্ধেক ধান তলিয়েছে বৃষ্টির পানিতে। বাকি অর্ধেক ধান ঘরে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু নৌকার অভাবে সেই কাজটিও পাড়ছেন না তিনি। প্রথমে ত্রিপল দিয়ে কাটা ধান তুলে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন লাল মিয়া।

লাল মিয়া জানান, কোনো উপায় না পেয়ে মহাজনের কাছ থেকে সুদের ওপর টাকা নিয়ে নৌকা কেনার জন্য যায়। সেখানে গিয়ে দেখি নৌকার দাম আকাশ ছোঁয়া। পরে নিরুপায় হয়ে ৫ হাজার দামের নৌকা সাড়ে ৮ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।

এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন নৌকা কিনতে আসা কৃষক রজব মিয়াও। তিনি বলেন, নৌকার দাম অনেক বেশি। তাই নৌকা না কিনে ত্রিপল কিনে নিয়ে যাচ্ছি। কী আর করার, যতটুকু সম্ভব ধান ঘরে তুলব।

অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে হাওরজুড়ে কৃষকদের নৌকা সংকট ও আকাশ ছোঁয়া দাম যেন এখন এভাবে নতুন দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। এরই মধ্যে প্রায় ৪৭% ধান কর্তন হয়েছে। তবে গেলো কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন হাওরে ৭ হাজার হেক্টরের ধান জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ধানের ক্ষতির পরিমাণ আরোও বেশি।

অর্ধেক ধান পানির নিচে, বাকিটুকু তুলতে বাধা ‘আকাশছোঁয়া’ নৌকার দাম

সুনামগঞ্জ শহরতলীর মাইজবাড়ি গ্রামের নৌকা বিক্রেতারা জানান, গত দুই সপ্তাহে সেখান থেকে প্রায় ৫০০টি নৌকা বিক্রি হয়েছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে বিক্রেতারা সময়মতো সরবরাহ করতে পারছেন না।

নৌকার কিনতে আসা কৃষক হাসুনর মিয়া বলেন, হাওরের ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা কিনতে হচ্ছে। কারণ নৌকা ছাড়া হাওর থেকে এখন ধান তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে হাওরে এই মুহূর্তে নৌকার চাহিদা বাড়ায় হঠাৎ করে দামও বেশি রাখা হচ্ছে।

মনির মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, আমাদের সব শেষ। তারপরও চেষ্টা করছি যেগুলো এখনও হাওরে পুরোপুরি ডুবে যায়নি, সেগুলো তুলে আনতে। তবে পানি বেশি থাকায় এখন নৌকার প্রয়োজন, তাই নৌকা কিনতে আসছি।

শনির হাওরের কৃষক আসাদ বলেন, নৌকা না থাকায় ত্রিপল দিয়ে ধান কিনারে নিতে হচ্ছে। ফলে মানুষ ও সময় দুটিই বেশি লাগছে।

সুনামগঞ্জের জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ইতোমধ্যে হাওরে ৭৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তবে হাওরের এখনও পানি থাকায় নৌকা কদর অনেকটা বেড়েছে। নৌকা ছাড়া এসব ধান কেটে ঘরে তোলা কঠিন।

লিপসন আহমেদ/কেএইচকে/জেআইএম