রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন একতা হাউজিং এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা মো. রুবেল ওরফে মাওরা রুবেলকে (২২) দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
বুধবার (৬ মে) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একতা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস এ তথ্য জানান।
এম মুবীন রহমান তাপস বলেন, আজ রাতে র্যাব-২ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করার উদ্দেশে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন একতা হাউজিং এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল সেই স্থানে বিশেষ অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সেই চক্রের মূলহোতা মো. রুবেল ওরফে মাওরা রুবেলকে র্যাব দেশীয় অস্ত্র সামুরাইসহ গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। গ্রেফতার আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। তারা সেই স্থানে ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিল মর্মে স্বীকার করে।
তিনি আরও বলেন, তারা চাপাতি, সামুরাই, চাকু ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে পথচারীদের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা, মোবাইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।
গত ১১ এপ্রিল তারিখে গ্রেফতার আসামিসহ তার অন্য সহযোগীরা রাজধানীর আদাবর এলাকায় একজন ডেলিভারিম্যানকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আসামির পিসিপিআর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই,চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার আসামিকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই বাছাই করে ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্ধার আলামত এবং আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কেআর/এএমএ

