Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

শান্তকে ‘ভাগ্যবান’ বললেন মুশফিক

পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টকে সামনে রেখে সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেখানে বর্তমান বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ, টেস্ট অধিনায়ক...
Homeযুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে ২০ শতাংশ, কারণ কী?

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে ২০ শতাংশ, কারণ কী?

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি কমতে শুরু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি নজরদারি ও ভিসা জটিলতার প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, এই সুযোগে এশিয়া ও ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে এগিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা নাফসাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বসন্ত সেমিস্টারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে।

সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর- উভয় পর্যায়েই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। শুধু স্নাতকোত্তর পর্যায়েই গড়ে ২৪ শতাংশ কম ভর্তি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন কমানো বা আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে প্রশাসন।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যাতায়াত- যার মধ্যে পুরোনো শিক্ষার্থীরাও ছিলেন- আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে যায়। গত শরতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা কমে ১ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়ায়, যা তিন বছরের মধ্যে প্রথম পতন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি ১৭ শতাংশ কমেছে।

নতুন বসন্তকালীন তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ ২০২৫ সালের শরতে যারা ভর্তি হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের আগেই আবেদন করেছিল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সেন্টার ফর গ্লোবাল হায়ার এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাইমন মার্জিনসন বলেন, যতদিন প্রশাসন পৃথিবীকে শত্রুতে ভরা একটি জায়গা হিসেবে দেখবে, ততদিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পূর্ণ টিউশন ফি দিয়ে থাকে। ফলে তাদের সংখ্যা কমে গেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে চাপ পড়বে। একইসঙ্গে শিক্ষাঙ্গনের বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্যও কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে এশিয়া ও ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পরিস্থিতির সুফল পাচ্ছে। নতুন জরিপ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৮২ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইউরোপের ৪৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীর ভর্তি বেড়েছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জরিপে ফিজি, ভারত, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অংশ নেয়। ইউরোপের জরিপে অংশ নেয় বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সাইমন মার্জিনসন বলেন, এটা বলা অতিরঞ্জন হবে যে যুক্তরাষ্ট্র আর আকর্ষণীয় নয়। এখনও এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। তবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবধান অনেক কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শিক্ষা গন্তব্যগুলোর উত্থান এখন এক ধরনের অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা।

কঠোর অভিবাসন নীতিতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ৮৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে ‘কঠোর সরকারি নীতি’। ট্রাম্প প্রশাসন এক ডজনের বেশি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একইসঙ্গে নতুন শিক্ষার্থী ভিসা কড়াকড়ি ও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই চালু করেছে। বিশেষ করে চীনা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরও বেশি।

গত বছরের মে থেকে আগস্টের মধ্যে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা ইস্যু ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কমেছে। যদিও এটি সরাসরি ভর্তি কমে যাওয়ার সমান নয়, তবে প্রবণতা স্পষ্ট। এছাড়া দক্ষ কর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াও আরও জটিল ও ব্যয়বহুল করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সম্ভাবনাও এখন অনেকের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

গত বসন্তে ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু করে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে আটক করেন এবং হাজারো শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করা হয়। যদিও পরে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর আইনি মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিনকার্ডধারী শিক্ষার্থীদেরও বহিষ্কারের চেষ্টা চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, তারা ফিলিস্তিনপন্থি ক্যাম্পাস আন্দোলনে যুক্ত ছিল অথবা ছোটখাটো অপরাধে জড়িত ছিল।

অনেক শিক্ষার্থী টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছে, এসব নীতির কারণে ভয়ের ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সাইমন মার্জিনসন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের প্রকাশ্য বৈরী আচরণ, যেমন- রাস্তায় ধরে নেওয়া, ছোটখাটো অপরাধের কারণে বহিষ্কার- আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, এমন ধারণা বদলাতে বহু বছর লাগে। আর এখনকার পরিবেশ মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ক্ষতিগ্রস্ত ‘বিগ ফোর’ও

জরিপে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি কমেছে। এই চার দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এবার অস্ট্রেলিয়ার ৪৪ শতাংশ, কানাডার ৬৯ শতাংশ ও যুক্তরাজ্যের ৪২ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি কমেছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এই পতন আরও বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার ৬৭ শতাংশ, কানাডার ৮০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের ৬৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তাদের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমেছে। এই তিন দেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত কঠোর সরকারি নীতিকেই দায়ী করেছে।

কানাডা শিক্ষার্থী ভিসার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এমন দেশগুলোর আবেদনকারীদের ওপর বাড়তি নজরদারি করছে, যাদের ভিসা অপব্যবহারের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হয়। আর যুক্তরাজ্য অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে।

মার্জিনসনের মতে, চীনা শিক্ষার্থীদের মনোভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষা পরামর্শক পরিবারগুলোকে বলছেন, অ্যাংলোফোন দেশগুলোতে শিক্ষার্থী পাঠাবেন না।

তার ভাষায়, চীনা জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহী মনোভাবের ধারণা প্রবেশের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। এছাড়া চীনের কঠিন চাকরির বাজারে বিদেশি ডিগ্রির মূল্য নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। বর্তমানে চীনে তরুণদের বেকারত্বের হার ১৬ শতাংশের বেশি।

আর্থিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বাজেট কাটছাঁট করতে হতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

ব্রিটিশ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিকাগোর ডি-পল ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার পর নিয়োগ স্থগিত, নির্বাহীদের বেতন কমানো ও অতিরিক্ত ব্যয় সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াও আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পর শত শত কর্মী ছাঁটাই করেছে। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রশাসনিক ও একাডেমিক বাজেট কমিয়ে ৪২৫টি পদ বাতিল করেছে।

নাফসার হিসাবে, ২০২৫ সালের শরতে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কে।

মার্জিনসন বলেন, বিদেশি ও অঙ্গরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীরা এখন আর অতিরিক্ত অর্থায়নের উৎস নয়, তারা মূল অর্থায়নের অংশ। তার মতে, এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ওপরও। কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে স্থানীয়দের ফি বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়।

এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন বড় বিকল্প

মার্জিনসনের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়া শুধু বাজেট নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপরও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) খাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এখন এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর বড় অংশ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাচ্ছে।

চীনা শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এখনও ‘বিগ ফোর’ দেশগুলোতে গেলেও ক্রমেই অনেকে এশিয়ার অন্যান্য দেশে ঝুঁকছে। গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১৯ সালের ৯ হাজার থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে ৪৭ হাজারে পৌঁছেছে।

থাইল্যান্ডে ২০১৬ সালে যেখানে চীনা শিক্ষার্থী ছিল ৬ হাজার ২০০-এর কম, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজারে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আর ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের ৭৩ হাজার ২০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই ছিল চীনের।

মার্জিনসন বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক, সাংস্কৃতিকভাবে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক সস্তা। তিনি আরও বলেন, গত দুই দশকে এশিয়ার দেশগুলো সরকারি অর্থায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে।

যদিও জরিপে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবুও চীন এখন ক্রমেই আকর্ষণীয় শিক্ষাগন্তব্য হয়ে উঠছে। চীনের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি কম ও বিশেষ করে এসটিইএম বিষয়ে তাদের সুনাম শক্তিশালী।

গত বছর গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি গবেষণার ক্ষেত্রে- বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট। চীনের সরকার ও কোম্পানিগুলো গবেষণা ও উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখে নেমে এলেও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। এই শিক্ষার্থীরা এসেছে ১৯১টি দেশ থেকে। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ এশিয়ার এবং ১৬ শতাংশ আফ্রিকার।

বিশ্লেষকদের মতে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে চীনের বাড়তে থাকা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে, যা শিক্ষাক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।

চীন নতুন ভিসা চালু, একাডেমিক বিনিময় ও পর্যটন বাড়ানোর মাধ্যমে নিজেকে আরও উন্মুক্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চায়নাম্যাক্সিং’ ট্রেন্ডও তরুণদের মধ্যে চীনের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে।

চীনে পড়াশোনার খরচ ‘বিগ ফোর’ দেশের তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি আফ্রিকা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিও দিচ্ছে বেইজিং।

তবে মার্জিনসনের মতে, যারা ম্যান্ডারিন জানেন না, তাদের জন্য ভাষাগত বাধা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী এখন হংকং। কারণ সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র‍্যাংকিং বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসনসংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ থাকায় বিদেশিদের জন্য সেটি আরও সহজ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। মার্চ ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে মার্কিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১৯ সালের প্রায় ১১ হাজার থেকে বর্তমানে ২ হাজারেরও নিচে নেমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন এডুকেশন ট্রাস্টের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনসংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়ন কমে যাওয়া, বিনিময় কর্মসূচি স্থগিত হওয়া এবং চীনের সঙ্গে অংশীদারত্ব কমানোর চাপ এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেক মার্কিন শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, চীনে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

এসএএইচ