কিউবার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রস্তাব আবারও নবায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সহায়তা নবায়নের পর কিউবা সফর করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। হাভানায় কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে এরই মধ্যে তিনি বৈঠক করেছেন।
এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার জানিয়েছে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সংলাপ উন্নত করা। পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে যে, হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়।
সিআইএর এক কর্মকর্তা সিবিএস-নিউজ কে বলেন, কিউবা মৌলিক পরিবর্তন আনলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।
আরও পড়ুন>>
সামরিক বিকল্প থাকলেও আপাতত কূটনৈতিক পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট কিউবায় পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ তীব্র অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে কিউবা। এর ফলে হাসপাতালগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারছে না এবং স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে রোমে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন, কিউবা ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে হাভানার কমিউনিস্ট সরকার এ দাবি অস্বীকার করে।
বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ওই প্রস্তাবের কথা জানায়। এর আগে কিউবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, কিউবার দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের ব্যর্থতার কারণে দেশটির জনগণ চরম সংকটে রয়েছে। অথচ কিউবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে এই সহায়তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দিচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিউবা এই সহায়তা গ্রহণ করবে নাকি জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রত্যাখ্যান করবে-সেই সিদ্ধান্ত কিউবার সরকারের ওপর নির্ভর করছে। জনগণের কাছে এর জবাবদিহিতাও তাদেরই করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রস্তাবিত সহায়তার মধ্যে সরাসরি মানবিক সহায়তা এবং দ্রুত ও উন্মুক্ত ইন্টারনেট সুবিধার জন্য অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, একদলীয় রাষ্ট্র কিউবা যেখানে গণমাধ্যমের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে এই ইন্টারনেট সুবিধা ভিন্নমতাবলম্বীদের উপকারে আসতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিউবায় ‘অর্থবহ সংস্কার’ এগিয়ে নিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: বিবিসি, এপি
কেএম

