Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeসিলেটে তাইজুল কি তাহলে শান্তর ‘ট্রাম্পকার্ড’!

সিলেটে তাইজুল কি তাহলে শান্তর ‘ট্রাম্পকার্ড’!

শেষ বিকেলে মোহাম্মদ রিজওয়ান আর আগা সালমান বিপজ্জনকভাবে এগুচ্ছিলেন। তা দেখে টাইগার সমর্থকদের অনেকেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। হায়, হায়! ম্যাচ না বুঝি হাতছাড়া হয়ে যায়!

কিন্তু শেষ বিকেলে তাইজুল ম্যাজিকে আবার টাইগার সমর্থকদের প্রাণ ফিরে এসেছে। এখন ম্যাচ যে জায়গায়, সেখান থেকে জয় আশা করাই যায়। বুধবার (২০ মে) পঞ্চম ও শেষ দিন ১২০ রানের মধ্যে পাকিস্তানের ৩ উইকেটের পতন ঘটাতে পারলেই সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ২ ম্যাচের সিরিজে শান মাসুদের পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করবে টাইগাররা।

তা কি সম্ভব? টেস্টের এ অবস্থায় টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ‘তুরুপের তাস’ বা প্রধান অস্ত্র হবেন কে? পুরো সিরিজে গতি দিয়ে পাকিস্তানিদের আতঙ্ক হয়ে দেখা দেওয়া নাহিদ রানার হাত ধরেই কি সিরিজজয়ী হবে বাংলাদেশ? নাকি ঘরের মাঠে গত কয়েক বছর ধরে যিনি টেস্টে নিয়মিত সাফল্যের রূপকার, সেই তাইজুলই হবেন সিলেট টেস্ট জয়ের নায়ক? সেটাই দেখার।

সিলেট টেস্টের আজকের দিনটি যারা পাখির চোখে দেখেছেন, তারা তাইজুলের দিকেই তাকিয়ে। মঙ্গলবার চতুর্থ দিন টাইগারদের ম্যাচে ফেরানোর পাশাপাশি ম্যাচের চালচিত্র পাল্টে দেওয়ার কাজটি আজ মূলত তাইজুলই করেছেন।

৪৩৭ রানের রেকর্ড টার্গেট সামনে রেখে পাকিস্তানিরা চতুর্থ দিন যে ৭ উইকেট হারিয়েছে, তার ৪টিই জমা পড়েছে বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুলের পকেটে।

সবচেয়ে বড় কথা, যাদের হাত ধরে এখনো ম্যাচে টিকে আছে পাকিস্তান, সেই ৪ জনের ৩ জন (বাবর আজম, শান মাসুদ ও আগা সালমান) আউট হয়েছেন তাইজুলের স্পিন ভেলকিতে। তাদের সঙ্গে একদম শেষ বিকেলে হাসান আলির উইকেটটিও জমা পড়ে তাইজুলের ঝুলিতে।

আজ শেষ সেশনে বড় অংশজুড়ে আগা সালমান ও মোহাম্মদ রিজওয়ান লড়াই করে ম্যাচে নিজ দলের অস্তিত্ব ধরে রাখার পাশাপাশি সম্ভাবনা জিইয়ে রাখলেও তারও আগে তৃতীয় উইকেটে বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ শুরুর বিপর্যয় (২/৪১) কাটিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

দু’জনের ব্যাটে ছিল সমান আস্থা, সাহস ও উদ্যম। দেখে মনে হচ্ছিল তারা জেতার জন্যই খেলছেন। উইকেট আগলে রাখাই শুধু নয়, রান তোলায়ও মনোযোগী ছিলেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। আলগা বলের অপেক্ষায় থেকে ইনিংস সাজিয়েছেন দুজনই। হাফ-ভলি, ওভারপিচ, লং হপ ও শর্ট অব লেংথ ডেলিভারির অপেক্ষায় থেকে সেগুলোকে সীমানার ওপারে পাঠাতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন দুজন। রান তোলায় মনোযোগী বাবর ও শান মাসুদ সিঙ্গেলস মিস করতেও ছাড়েননি।

এই জুটি ভেঙে পাকিস্তানিদের আবার হতোদ্যম করে দেন তাইজুল। প্রথমে তার বলে ফেরেন বাবর আজম।

প্রায় ওয়ানডে মেজাজে ৯০.৩৮ স্ট্রাইক রেটে ৫২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও তাইজুলকে পুল করে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৭ রান করা বাবর আউট হন তাইজুলের লেগস্টাম্পের ঠিক বাইরের বলকে মাঝব্যাটে আনতে না পেরে। ফ্লিক ও গ্ল্যান্সের মাঝামাঝি কিছু একটা খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাবর।

আর পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ সমালোচকদের মুখে ছাই ঘষে দেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তাইজুলের ডেলিভারিতেই শর্ট লেগে সাদমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান মাসুদ। বেশ কিছু আত্মবিশ্বাসী শট খেলে বাউন্ডারি হাঁকানো পাকিস্তান অধিনায়ক ১১৬ বলে ৭১ রানে আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল পাকিস্তান বুঝি ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল।

কিন্তু না। ১৬২ রানে ইনিংসের অর্ধেক খোয়ানোর পর আগা সালমান আর মোহাম্মদ রিজওয়ান আবার প্রতিরোধের দেয়াল গড়েন। এই জুটিই ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করেন।

কিন্তু একদম শেষ বিকেলে নতুন বল হাতে তাইজুল সোজা ডেলিভারিতে বোকা বানান প্রায় সেট হয়ে যাওয়া আগা সালমানকে। ১০২ বলে ৬ বাউন্ডারি ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে ৭১ রান করা আগা সালমান খেলছিলেন আত্মবিশ্বাস ও আস্থায়। উইকেটের সামনে ও দুদিকে বেশ সাবলীল এ পাকিস্তানি ব্যাটারকে নতুন বলে প্রথমে টার্নে পরাস্ত করেন তাইজুল। সেই ওভারের পঞ্চম বলটি সোজা ছোড়েন তাইজুল। বল সালমানের প্যাড ও ব্যাটের ফাঁক গলে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়।

ভেঙে যায় আগা সালমান আর রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটি। আবার দাপটে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এক ওভার পর আবার আঘাত তাইজুলের। অফস্ট্যাম্পের বাইরে টার্নে ব্যাট পেতে স্লিপে ক্যাচ দেন হাসান আলি।

একদম শেষ বিকেলে এসে ৮ রানে ২ উইকেট খুইয়ে বিপাকে পাকিস্তান। পুরো সিরিজে পাকিস্তানিদের মাথাব্যথার কারণ নাহিদ রানার পাশাপাশি এ টেস্টে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলও সর্বোচ্চ সমীহ আদায়ের পাশাপাশি উইকেট পাচ্ছেন। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট পাওয়া এ বাঁহাতি স্পিনারের ঝুলিতে এরই মধ্যে জমা পড়েছে ৭ উইকেট।

কাল বুধবার ম্যাচের শেষ দিন তাইজুলের স্পিন-ঘূর্ণি সামলানোই কঠিন হতে পারে পাকিস্তানিদের। মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩৪ বলে ৭৫* নট আউট) ছাড়া সবাই সাজঘরে। রিজওয়ান একপ্রান্ত আগলে রাখলেও সাজিদ খান, খুররম শাহজাদ আর মোহাম্মদ আব্বাসরা কি তাইজুলের ঘূর্ণি সামলাতে পারবেন?

এআরবি/আইএইচএস