পাবনার ঈশ্বরদীতে কোরবানির পশু ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এক জোড়া গোলাপি রঙের মহিষ। পৌর শহরের অরণকোলা পশুর হাটসংলগ্ন জাকির ডেইরি ফার্মে রয়েছে এই জোড়া গোলাপি মহিষ। গোলাপি রঙের মহিষ দুটি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা খামারে আসছেন। আবার অনেকেই গোলাপি মহিষ দেখতে খামারে ভিড় জমাচ্ছেন।
দেশে গোলাপি রঙের মহিষ বিরল। খুব একটা বেশি এই মহিষ দেখা যায় না। ঈশ্বরদীর খামারগুলোতে চার-পাঁচ বছর ধরে গোলাপি রঙের মহিষ পালন করা হয়। বিগত বছরগুলোতে অরণকোলা মামা কৃষি ফার্ম, আলো ডেইরি ফার্ম ও তানভীর ডেইরি ফার্মে গোলাপি মহিষ লালন-পালন করা হয়। প্রতিবছরই কোরবানির ঈদে এই গোলাপি মহিষ বিক্রি করে খামারিরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ মহিষগুলো অ্যালবেনো বাফেলো (Albino Buffalo) জাতের। অত্যন্ত বিরল প্রজাতির মহিষ। জিনগত ত্রুটির কারণে ত্বকে মেলানিনের (Melanin) অভাব ঘটে, যার ফলে এদের শরীর হালকা গোলাপি হয় বা কখনো কখনো ধবধবে সাদা হয়। এদের চোখ সাধারণত হালকা গোলাপি বা নীল রঙের হয়ে থাকে। এ মহিষ কালো মহিষের মতোই শান্ত প্রকৃতির। খাদ্যেভ্যাসের কোনো পরিবর্তন নেই। অন্যান্য মহিষ যা খায় এ মহিষও তাই খায়। শরীরের রঙ গোলাপি হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এ মহিষের কদর বেশি।

অরণকোলার জাকির ডেইরি ফার্মের পরিচালক শরীফ হোসেন জানান, গোলাপি জাতের মহিষ দুটি আমাদের খামারে ৬ বছর ধরে লালন পালন করেছি। এ মহিষ দুটি সখের বশে লালনপালন করেছি। মহিষকে দিনে দুইবার গোসল করাতে হয়। দিনে বেশ কয়েকবার খাবার দিতে হয়। মহিষ দুটি কোরবানি দেওয়ার জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত।
জাকির ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, আমাদের খামারে দুইটি অ্যালবেনো জাতের মহিষ রয়েছে। এ মহিষ সচরাচর মিলে না। আমরা খুব কষ্ট করে এ দুইটি মহিষ সংগ্রহ করেছি। এ মহিষের বাজার দর এখন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ মহিষগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। তাই বাজারদর একটু বেশি।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে উপজেলার অরণকোলার এক খামারে বিরল জাতের একজোড়া মহিষ লালনপালন করা হচ্ছে। যেটাকে অ্যালবেনো বাফেলো জাতের মহিষ বলা হয়। এ জাতের মহিষ কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে এ দেশে আসে। গায়ের রঙ গোলাপি হওয়ায় এগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। তাই কোরবানির ঈদে ক্রেতাদের কাছে এগুলোর চাহিদা বেশি মনে হচ্ছে।
শেখ মহসীন/এফএ/এমএস

