Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeরাজশাহীতে কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি ৯২ হাজার পশু

রাজশাহীতে কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি ৯২ হাজার পশু

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে জমে উঠেছে পশুর হাট। জেলার ঐতিহ্যবাহী সিটি হাটসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাটে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। তবে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে ক্রেতার চেয়ে পশুর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। বিপরীতে জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। ফলে প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে।

রাজশাহীর সিটি হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে পশু নিয়ে হাটে ভিড় জমাচ্ছেন গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। রাজশাহী জেলা ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ভর্তি গরু নিয়ে সিটি হাটে আসতে দেখা যায় খামারিদের। তবে ঈদের আরও বেশ কয়েকদিন বাকি থাকায় সেভাবে ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি।

তবে খামারিরা বলছেন, দুএকদিন পর থেকেই ভালো বেচে কেনা হবে।

এছাড়াও রাজশাহীর সোনাইচাঁদী, কাঁকনহাট, দামকুড়া, সাবাই, বানেশ্বর, কাটাখালী, নওহাটা, কেশরহাট ও তেবাড়িয়া হাটেও পশু বেচাকেনা জমে উঠেছে। অনেকে আবার সরাসরি খামার বা গেরস্থ বাড়ি থেকেই পশু কিনে আগাম বুকিং দিচ্ছেন।

হাটে থাকা খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে তারা ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের মুখে পড়বেন।

সুরেন্দ্রনাথ নামের এক খামারি বলেন, প্রতি কেজি মাংসের দাম যদি ৮০০ টাকার মধ্যে না পাই, তাহলে আমাদের লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হবে। কারণ এ বছর পশু লালন পালন করতে আমাদের অর্থ বেশি ব্যয় হয়েছে।

পবা উপজেলার টিকর গ্রামের খামারি রমজান আলী জানান, খাদ্য ও পরিচর্যা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এবার পশু উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তাই সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, হাটে সক্রিয় দালাল চক্র অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে পশুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত দামে পশু কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া কয়েকদিনের তীব্র গরমে হাটে আসা মানুষজনও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, একসময় ভারতীয় গরু আসায় স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এবার সীমান্তে বাড়তি নজরদারি নেওয়া হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে না পারে। স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, রাজশাহী অঞ্চলে এবার পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাটগুলোতে নজরদারি ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/এএসএম