Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

আলোচনার ‘সর্বশেষ’ অবস্থা নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবকে কী জানালেন আরাঘচি?

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চলমান আলোচনার ‘সর্বশেষ’ অবস্থা সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনি গুতেরেস-কে অবহিত করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অসৎ আচরণ...
Homeলিবিয়া থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আরও ৩৫০ বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আরও ৩৫০ বাংলাদেশি

লিবিয়ার বেনগাজি শহরের গানফুদা আটককেন্দ্রে বন্দিদশায় থাকা ১৭০ জন বাংলাদেশে স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় নিজ দেশে ফিরেছেন। এ মাসেই আরও দুটি ফ্লাইটে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্রে বন্দি থাকা ৩৫০ জন বাংলাদেশি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা। তাদের মধ্যে ১৯ জন অভিবাসী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে লিবিয়ায় অনিয়মিত অবস্থায় থাকা এসব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হয়েছে। এই স্বেচ্ছাপ্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপ পৌঁছানোর লক্ষ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। লিবিয়া অবস্থানকালে তাদের অনেকেই স্থানীয় অপরাধী চক্রের হাতে অপহরণ ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, বিমানবন্দরে দেশে ফেরা ১৭০ বাংলাদেশিকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর কর্মকর্তারা।

এ সময় মানবপাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সবাইকে জানাতে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতার কথা মানুষ জানতে পারলে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে কেউ পা বাড়াবে না।

এদিকে দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে আইওএম-এর পক্ষ থেকে বাড়ি ফেরার পথ খরচ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বাসস্থানের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে (আটককেন্দ্র) আটকে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আইওএম যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্র বন্দি বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এসব তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হলে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চলতি মাসে আরো দুটি প্রতাবাসন ফ্লাইট
আগামী ২৪ ও ৩১ মে লিবিয়ার আটককেন্দ্র থেকে আরও ৩৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দূতাবাস কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে ত্রিপোলির তাজুরা আটককেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।

তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি তাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে দূতাবাসের চলমান প্রচেষ্টার সম্পর্কে অবহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন।

আটকে পড়া বাংলাদেশি অভিবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে নিজ ভিটেমাটিসহ সর্বস্ব হারানোর কথা জানান এবং লিবিয়ায় তাদের অমানবিক ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়াও তারা দালালচক্রের প্রতারণা, দীর্ঘদিন আটক অবস্থায় থাকা এবং নানা ধরনের দুর্ভোগের বিষয় উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেখানে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

আটককেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত হাবীব উল্লাহ। বৈঠকে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়াও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।

এমআরএম