পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাজারে জমে উঠেছে মসলার বেচাকেনা। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি রান্নার প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গৃহিণীরা। ফলে শহরের বড় বাজারগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, এলাচ, দারুচিনিসহ বিভিন্ন ধরনের মসলার দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ভিড়।
শুক্রবার (২২ মে) নগরীর নতুন বাজার, চরপাড়া বাজার, মেছোয়া বাজার ও সানকিপাড়া এলাকার কয়েকটি মসলার দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেশ কিছু মসলার দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে মসলা কিনছেন অনেকে। কেউ সপ্তাহজুড়ে রান্নার জন্য, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজন আপ্যায়নের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মসলা সংগ্রহ করছেন।
সানকিপাড়া বাজারের মসলা ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক বলেন, ঈদের আগে এমনিতেই মসলার চাহিদা বাড়ে। তবে এবার দাম তুলনামূলক কম থাকায় মানুষ বেশি করে কিনছেন। সকাল থেকে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা এবং আদা ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জিরা ৬৫০, দারচিনি ৫০০ এবং এলাচ প্রতি কেজি চার হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চরপাড়া বাজারের আরেক ব্যবসায়ী নুর ইসলাম বলেন, আগে মানুষ শুধু গরম মসলা কিনতো। এখন রেডিমেড বিভিন্ন ধরনের মসলার চাহিদাও অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কাবাব মসলা, বোরহানি মসলা, বিরিয়ানি মসলা ও হালিম মসলার বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী মাহমুদা আক্তার বলেন, ঈদের সময় একসঙ্গে অনেক রান্না করতে হয়। তাই আগে থেকেই সব মসলা কিনে রাখছি। এবার কিছু পণ্যের দাম কম থাকায় একটু স্বস্তি লাগছে।
একই বাজারের ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, মাংস রান্নার জন্য ভালোমানের মসলা দরকার হয়। তাই একটু দাম বেশি হলেও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হচ্ছে। তবে আদার দাম আরও কম হলে ভালো হতো।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বাজারে ক্রেতার চাপ ততই বাড়বে। সেই সঙ্গে মসলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইকারি বাজার থেকে নিয়মিত পণ্য আনা হচ্ছে বলেও জানান তারা।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন বাজারে শুধু খোলা মসলাই নয়, প্যাকেটজাত মসলার দোকানগুলোতেও বেড়েছে বিক্রি। অনেকেই এখন ঝামেলা এড়াতে প্রস্তুত মসলা কিনছেন। ফলে দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মসলার চাহিদাও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার বাজারে যে বাড়তি চাঙ্গাভাব তৈরি হয়েছে, তা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
হোসাইন সুলভ/এএইচ/এএসএম

