যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন ও বাধার কারণে ইউরেনিয়াম ইস্যুতে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি অবস্থানে এসেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগেই জব্দকৃত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ মুক্তি এবং বাকি সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড়ের নিশ্চয়তা চাইছে ইরান। এসব জব্দ সম্পদ না ছাড়লে কোনো সমঝোতা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান।
রোববার (২৪ মে) একটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। এর বিপরীতে প্রথম ধাপেই জব্দ সম্পদের একটি অংশ ছাড় এবং পরবর্তী সময়ে সব সম্পদ মুক্তির জন্য সুস্পষ্ট ও নিশ্চিত প্রক্রিয়া থাকতে হবে বলে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে ইরান। এই বিষয়টি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী এবং আলোচনায় যুক্ত কয়েকটি আঞ্চলিক দেশকে অবহিত করা হয়েছে।
সূত্রটি দাবি করেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় আগে যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, এখন যুক্তরাষ্ট্রই সেই প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। তাই ইরান জানিয়েছে, তারা নিজেদের রেড লাইন থেকে সরে আসবে না। সম্পদ মুক্তির প্রশ্নে মতবিরোধই এখন পর্যন্ত চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
এছাড়া অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বাধা সৃষ্টির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সূত্রটি বলেছে, কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি বা অস্পষ্ট অঙ্গীকারের ওপর ভরসা করে ইরান সম্পদ মুক্তির বিষয়টি ছেড়ে দিতে রাজি নয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর গত এপ্রিল মাসে সংঘাত বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১০ দফা প্রস্তাব দেয় ইরান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে ওই ১০ দফার মধ্যে তিনটি দফা পূর্বশর্ত হিসেবে দাড় করায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। সেই ১০ দফার ৮ নম্বর দফাটি ছিল ইরানে পূর্বশর্ত। এই ৮ নং দফায়-যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের তহবিল এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থার তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী।
কেএম

