লিভারপুলে নিজের শেষ ম্যাচটা খেলে ফেললেন মোহাম্মদ সালাহ। ঘরের মাঠে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করেছে লিভারপুল।
ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা না পেলেও অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েন মিসরীয় এই ফরোয়ার্ড। বিদায়বেলায় বললেন, লিভারপুলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলতে নেমে তিনি ‘জীবনের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কেঁদেছেন’।
সালাহর সতীর্থ অ্যান্ডি রবার্টসনও অ্যানফিল্ডের সমর্থকদের কাছ থেকে দারুণ ভালোবাসা পান। গত নয় বছরে এই দুই খেলোয়াড় ক্লাবের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সালাহ স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি পুরো জীবনে এর চেয়ে বেশি আর কাঁদিনি। আমি সাধারণত খুব আবেগপ্রবণ মানুষ নই। আমরা এখানে আমাদের যৌবনের সময় কাটিয়েছি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু একসঙ্গে ভাগ করেছি। আমরা এই ক্লাবকে তার প্রাপ্য জায়গায় ফিরিয়ে এনেছি।’
দীর্ঘিদিনের সঙ্গী রবার্টসনকে নিয়ে সালাহ বলেন, ‘রবার্টসনকে সবাই ভালোবাসে কারণ সে মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দেয়। এ কারণেই সমর্থকেরা তাকে এত ভালোবাসে।’
সেই ২০১৭ সালের ট্রান্সফার উইন্ডোতে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন সালাহ ও রবার্টসন। একসঙ্গে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় করেন।
শেষ মৌসুমে কিছু বিতর্ক থাকলেও অ্যানফিল্ডের সমর্থকদের মধ্যে সালাহর প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব দেখা যায়নি। কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন ক্লাব তাকে ‘বাসের নিচে ফেলে দিয়েছে’, আর মে মাসে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন যে দলকে আবার ‘হেভি মেটাল ফুটবল’-এ ফিরতে হবে।
তবে নিজের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই বলেন সালাহ। তিনি বলেন,‘এটাই জীবন। আমি পেছনে তাকিয়ে ভাবি, আমি যা অর্জন করেছি তার চেয়ে বেশি কি চাইতাম? আসলে না। আমরা সবকিছু জিতেছি। সমর্থকদের ভালোবাসা দেখছি, আর এটাই আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
‘আমি এখান থেকে অনেক দূরে থাকব। প্রতিবারই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ব। আশা করি দলটা সবকিছুর জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে’-আবেগী কণ্ঠে বলেন সালাহ।
অন্যদিকে রবার্টসন জানান, বিদায়ের এই সময়টা তার জন্য খুব আবেগঘন ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে ক্লান্ত। পুরো সপ্তাহটাই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছি এবং যাদের বিদায় বলা দরকার ছিল, তাদের বিদায় জানিয়েছি। পেপ গার্দিওলা (ম্যানসিটি কোচ) আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছেন। উনি না থাকলে হয়তো আমরা আরও বেশি প্রিমিয়ার লিগ জিততাম।’
এমএমআর

