রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) রুটিন প্রকাশের পরও বারবার পরীক্ষা পেছানোর ঘটনা যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্র হয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেই স্থগিত করা হচ্ছে নির্ধারিত পরীক্ষা। ‘পরীক্ষা পেছাও’ নামক এই সংস্কৃতিতে ক্রমশই আক্রান্ত হয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল অনুষদ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসন দৃঢ় অবস্থান না নেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রুটিন প্রকাশের পরও পরীক্ষা বারবার পেছানোর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রুটিন যদি মানারই না থাকে, তাহলে সেটি প্রকাশ করার প্রয়োজন কী? এখন আবেদন দিলেই পরীক্ষা পেছানোর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিকবার পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২০ মে কৃষি অনুষদের লেভেল-৩ সেমিস্টার-২ (২২ ব্যাচ) এর প্যাথলজি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর আগে একই ব্যাচের ‘সয়েল ৩০৩’ কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তা তিন ধাপে পিছিয়ে গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
৪ মণের গরু হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, শুরু হয়নি বেচাকেনা
হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন ক্রেতারা, ছোট-মাঝারি গরুতেই বেশি আগ্রহ
ঢাকার কোরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি সেবা দিচ্ছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা
গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই অনুষদের লেভেল-২ সেমিস্টার-২ এর ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হলেও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত রুটিন অনুযায়ী ২ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-সংগৃহীত ছবি
এ ছাড়া এএসভিএম অনুষদের লেভেল-২ সেমিস্টার-২ এর ফাইনাল পরীক্ষায় একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাকি পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় ৬১ দিন পর স্থগিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়।
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের লেভেল-২ সেমিস্টার-২ এর ‘এফপিএইচটি ২৫১’ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রায় ৪১ দিন বিরতির পর ১৩ এপ্রিল পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। একই অনুষদে বিভিন্ন সময় ফাইনাল ও মিডটার্ম পরীক্ষাও পিছিয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদেও।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থীর দাবির মুখে বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ায় একাডেমিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেশনজটের মতো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।
বিষয়টি আমাদেরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এটা বন্ধের চেষ্টা করছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আমার বাসার সামনে, ডিনের বাসার নিচে আবেদন নিয়ে চলে আসে; তখন আর করার কিছু থাকে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রুটিন যদি মানারই না থাকে, তাহলে সেটি প্রকাশ করার প্রয়োজন কী? এখন আবেদন দিলেই পরীক্ষা পেছানোর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা পেছানোটাকে যৌক্তিক মনে করি। তবে সহজেই পেছানোর সুযোগ পাওয়াতে বিষয়টা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে থাকত, তাহলে যৌক্তিক কারণ ছাড়া বারবার পরীক্ষা পেছানোর ঘটনা ঘটত না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদেরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এটা বন্ধের চেষ্টা করছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আমার বাসার সামনে, ডিনের বাসার নিচে আবেদন নিয়ে চলে আসে; তখন আর করার কিছু থাকে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সকল অনুষদের ডিন বসে এই বিষয়ে অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সামনে এই বিষয়ে আর নরম থাকার সুযোগ নেই।’
এমডিএসএ/এসএইচএস

