Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

কাদাপানিতে মাখামাখি হাট, দরদামে মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। রাজধানীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাদাপানিতে মাখামাখি হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে...
Homeভারতে মুসলিমরা কেন গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণা চান?

ভারতে মুসলিমরা কেন গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণা চান?

ভারতে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেছে দেশটির বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন। হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের কাছে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত এই প্রাণীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের জাতীয় পশু বাঘ।

সাধারণত হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে এই দাবি দীর্ঘকাল ধরে করা হলেও এবার মুসলিম সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এমন দাবি আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দাবি তোলা হলো।

মুসলিম নেতাদের মতে, গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করলে দেশজুড়ে গো-হত্যার বিষয়ে একটি অভিন্ন আইন তৈরি হবে। এর ফলে ‘গো-রক্ষার’ নামে মুসলিমদের ওপর যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন>>
ভারতে গরুর মাংস বহনের সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৩
ভারতে ‘গোরক্ষকদের’ হামলায় নিহত আরও এক মুসলিম যুবক

ভারতে ফ্রিজে গরুর মাংস পাওয়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১১ জনের বাড়ি
ভারতে শীর্ষ গরুর মাংস রপ্তানিকারকের সর্বোচ্চ অনুদান পায় মোদীর বিজেপি

অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামায়াতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা। এর জন্য দিল্লিতে মুসলিম সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।

একই সুর শোনা গেছে অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা ইয়াসুব আব্বাসের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, গো-রক্ষার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সব রাজ্যে একই রকম হওয়া উচিত, বৈষম্যমূলক নয়।

অন্যদিকে, জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একাংশের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি জানান, তিনি ২০১৪ সালেও মুম্বাইয়ের একটি সর্বধর্ম সম্মেলনে এই দাবি তুলেছিলেন। তিনি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার পাশাপাশি এর জবাই ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহালি বলেন, হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই গরুকে এই মর্যাদা দেওয়া উচিত।

বিজেপির অবস্থান ও ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা

ভারতে গো-রক্ষা দীর্ঘকাল ধরেই বিজেপি এবং তার মাতৃসংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা। ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিজেপি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে গো-রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সম্প্রতি চলতি মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেখানেও ১৪ বছরের বেশি বয়সের গরু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়ার আইন কার্যকর করার দাবি উঠেছে।

তবে মুসলিম নেতা এবং বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, গরুর মাংস (বিফ) নিয়ে বিজেপির নীতিতে চরম বৈষম্য ও দ্বিমুখী আচরণ রয়েছে। উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলোতে বিজেপি সরকার গো-হত্যার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপালেও গোয়া এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (যেমন: অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও ত্রিপুরা) তাদের অবস্থান বেশ শিথিল।

সমালোচকরা বলছেন, একদিকে দেশে গো-হত্যার নামে কড়াকড়ি চলছে, অন্যদিকে বিজেপি সরকারের আমলেই ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের কাউসার হায়াত খান এই দাবিকে সমর্থন করে বলেন, বিজেপিশাসিত গোয়া, আসাম এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে অবাধে গরুর মাংস খাওয়া হচ্ছে, অথচ উত্তর প্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে একটি একক জাতীয় আইন থাকলে এই দ্বিমুখী নীতি ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

সুত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেএএ/