Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

The Russian Drone That Hit Romania Also Hit European Confidence

The failure to protect NATO territory further increased anxiety about alliance solidarity, Russia’s intentions and Washington’s commitment to collective defense.
Home৩০ বছরের পুরোনো সিস্টেমে ধস, মালয়েশিয়া সীমান্তে ভোগান্তি চরমে

৩০ বছরের পুরোনো সিস্টেমে ধস, মালয়েশিয়া সীমান্তে ভোগান্তি চরমে

মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানায়, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। ফলে দেশটির বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় জোহরের দুই প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্টে সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্স (কেএসএবি)। এই দুটি সীমান্তপথ প্রতিদিন হাজারো মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের সময়টি ছিল ‌‘অত্যন্ত ব্যস্ত সময়’। তখন বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘শুধু অটো-গেটই নয়, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়েছে।’

এটি গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিভ্রাট। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের সমস্যায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে মালয়েশিয়ার অধিকাংশ ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে। দেশটিতে বর্তমানে ১১৪টি ইমিগ্রেশন প্রবেশপথ রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬টি সমুদ্রপথ, ৩০টি স্থলপথ এবং ২৮টি বিমানবন্দর।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে। পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়।

তিনি বলেন, ‘সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি। প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা। তাই মাঝে-মধ্যেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’

সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই সিস্টেমের পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ চালু করা হবে। আধুনিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাসপোর্ট যাচাই, ভিসা পরীক্ষা এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জোহর সফরকালে জানান, আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র‌্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম এর আগে নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের এই বিভ্রাটে সীমান্ত পারাপারকারী বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ যাত্রী, অতিরিক্ত ভিড় এবং সীমান্ত এলাকায় তীব্র যানজট।

সিঙ্গাপুরগামী এক মালয়েশিয়ান কর্মজীবী এম সাথিশ জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় কেএসএবি চেকপয়েন্টে পৌঁছে ‘চরম বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সাধারণত যেখানে ইমিগ্রেশন পার হতে ১০ মিনিটেরও কম সময় লাগে, সেখানে সেদিন তার প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে।

৩৫ বছর বয়সী এই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে আগেভাগে বের না হলে নিশ্চিতভাবে অফিসে দেরি হয়ে যেত। এই বিভ্রাট যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আরেক যাত্রী, সিঙ্গাপুরে কর্মরত হিসাবরক্ষক সো কিয়াও শি জানান, সাধারণত পাঁচ মিনিটে শেষ হওয়া ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় তার সেদিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, ‘কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কোনোটিই কাজ করছিল না। সবাইকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক ছিল।’

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর এ ধরনের সমস্যা একাধিকবার ঘটেছে, যা সীমান্তনির্ভর কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

এমআরএম