Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

ফিনল্যান্ডের জালে এক হালি গোল দিলো জার্মানি

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ফিনল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানি। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ফিনল্যান্ডকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। তবে এই...
Homeমহিষ ট্রাম্পের মহিমা: এক মহিষ, বহু কাণ্ড

মহিষ ট্রাম্পের মহিমা: এক মহিষ, বহু কাণ্ড

বাংলাদেশে রাজনীতি নিয়ে হইচই নতুন কিছু নয়। ক্ষমতা নিয়ে টানাপোড়েন, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা—এসব আমাদের নিত্যদিনের ব্যাপার। কিন্তু সম্প্রতি দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এমন এক চরিত্র, যে না রাজনীতিবিদ, না ব্যবসায়ী, না তারকা। সে একটি মহিষ। নাম তার—ট্রাম্প। হ্যাঁ, ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন—একজন খাঁটি বাংলাদেশি মহিষ।

মহিষ নিয়ে এমন আলোচনা এ দেশে আগে কখনো হয়েছে বলে মনে পড়ে না। মানুষের ভাগ্যে যা ঘটে না, ট্রাম্প নামের এই মহিষের ভাগ্যে তা-ই ঘটেছে। বিক্রি হয়েছে, আবার ফেরত এসেছে। তাকে নিয়ে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত বিষয়টি দেখেছেন। পরে তাকে নেওয়া হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। এরপর তার নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি নামকরণের জেরে চিড়িয়াখানার কিউরেটরের বদলির ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়িয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে সে।

একটি মহিষের জীবন যে এত ঘটনাবহুল হতে পারে, তা কে জানত! বাংলার গ্রামে মহিষ সাধারণত থাকে হাওর-বাঁওড়ে, কাদায়, খেতের আইলে কিংবা গোয়ালে। তার কাজ ঘাস খাওয়া, জাবর কাটা, মাঝে মাঝে জলকাদায় গা ডোবানো। জীবনে তার খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে না। রাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ নেই। কিন্তু এই ট্রাম্প যেন ব্যতিক্রম। সে যেন জন্ম থেকেই খবর হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তার নামের মধ্যেই নাটকীয়তা।

কেউ যদি মহিষের নাম রাখত কালু, ভোলা, সোনা, বাদশা কিংবা লালু—কেউ খবর নিত না। কিন্তু নাম রাখা হলো ট্রাম্প। আর নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই যেন তার ভাগ্য বদলে গেল। গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে সে জাতীয় আলোচনায় উঠে এল। তারপর আন্তর্জাতিক মিডিয়াও বলল—বাংলাদেশে এক মহিষের নাম ট্রাম্প! এ যেন নামের রাজনীতি। মানুষের নাম তার পরিচয় বহন করে—এ কথা আমরা জানি। কিন্তু একটি মহিষের নামও যে প্রশাসনিক ফাইল নাড়াতে পারে, সরকারি মহলে আলোড়ন তুলতে পারে, এমনকি বদলির কারণ হতে পারে—এটি বাংলাদেশের বিশেষ অর্জন হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প মহিষটি একবার বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।

মনে হয়েছিল, তার অধ্যায় বুঝি শেষ। হয়তো সে নতুন কোনো খামারে গিয়ে শান্তিতে দিন কাটাবে। কিন্তু না। ভাগ্য যেন তাকে ছাড়তে রাজি নয়। তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হলো। যেন সে সাধারণ মহিষ নয়—রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অথবা জাতীয় আবেগের অংশ। এমন প্রত্যাবর্তন সাধারণত দেখা যায় রাজনীতিতে। নির্বাচনে হেরে যাওয়া কেউ আবার ফিরে আসেন। ক্ষমতা হারানো কেউ আবার পুনরুত্থান ঘটান। কিন্তু এক মহিষেরও যে এমন ‘কামব্যাক’ হতে পারে—ট্রাম্প আমাদের সেটাও শিখিয়েছে। এরপর তাকে স্থান দেওয়া হলো চিড়িয়াখানায়। এ যেন এক নতুন অধ্যায়। গ্রামের মাঠ থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তায় চিড়িয়াখানায় প্রবেশ।

ইতিহাসে বহু বিখ্যাত প্রাণীর কথা লেখা আছে—রাজাদের ঘোড়া, যুদ্ধের হাতি, মহাকাশে যাওয়া কুকুর লাইকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়তো এখন যুক্ত হবে আরেক নাম—ট্রাম্প, সেই মহিষ; যে বিক্রি হয়ে ফিরে এসেছে, মন্ত্রীকে নাড়িয়েছে, চিড়িয়াখানায় উঠেছে, নাম বিতর্ক তৈরি করেছে, কিউরেটরের বদলির কারণ হয়েছে এবং বিশ্বমিডিয়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। সব মহিষ মহিষ নয়। কারও কারও নাম ট্রাম্প। আর কারও কারও জীবনে ইতিহাস নিজে এসে শিং ধরে দাঁড়িয়ে যায়।

কত পশু সারাজীবন কাটিয়ে দেয় পরিচয়হীনভাবে। অথচ ট্রাম্প প্রবেশ করল আলো ঝলমলে জনপরিসরে। দর্শনার্থীরা তাকে দেখতে এলেন, ছবি তুললেন, গল্প করলেন। হয়তো কেউ কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে ভাবলেন—‘এই সেই ট্রাম্প!’ তারপর এল নাম বিতর্ক। নামটি ভুল হয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হলো আলোচনা। আর সেই আলোচনা গিয়ে ঠেকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে। শেষ পর্যন্ত কিউরেটর বদলির খবরও এল। ভাবা যায়!

একটি মহিষের নামের অভিঘাতে একজন কর্মকর্তার বদলি! আমাদের দেশে কত বিষয় আছে, যেগুলো বছরের পর বছর সমাধান হয় না। ফাইল ঘোরে, সভা হয়, সুপারিশ হয়—তারপরও কিছু এগোয় না। কিন্তু মহিষ ট্রাম্প প্রমাণ করেছে, ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। অন্তত আলোচনার কেন্দ্রে আসা সম্ভব। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা পেয়েছে।

পৃথিবীর নানা দেশের মানুষ হয়তো সকালের কফি হাতে পড়েছেন—বাংলাদেশে এক মহিষের নাম ট্রাম্প, তাকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বিশ্ব নিশ্চয়ই অবাক হয়েছে। আমরাও হয়েছি। তবে আমাদের অবাক হওয়ার ক্ষমতা একটু বেশি বলেই হয়তো আমরা বিষয়টিকে সহজে গ্রহণ করেছি। ট্রাম্প মহিষের গল্প নিছক হাসির নয়; এটি আমাদের সময়ের এক অদ্ভুত সামাজিক প্রতিচ্ছবিও বটে। এখানে নামের ভেতর রাজনীতি আছে, প্রাণীর ভেতর প্রতীক আছে, আর ঘটনাপ্রবাহের ভেতর আছে জনমাধ্যমের অসীম ক্ষুধা।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে একটি মহিষও সংবাদ হতে পারে, বিতর্ক হতে পারে, এমনকি আন্তর্জাতিক আলোচনার উপাদান হতে পারে। হয়তো ট্রাম্প নিজে কিছুই জানে না। সে হয়তো দিব্যি ঘাস খাচ্ছে, জল খাচ্ছে, নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে আছে। সে জানে না, তাকে নিয়ে মানুষ আলোচনা করছে, কলাম লেখা হচ্ছে, সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। সে জানে না, তার নাম উচ্চারণ করে কেউ হাসছে, কেউ তর্ক করছে, কেউ ছবি তুলছে।

এই না-জানার মধ্যেই তার প্রশান্তি। মানুষ হিসেবে আমরা যেখানে পরিচয়, বিতর্ক, ব্যাখ্যা আর প্রতিক্রিয়ার ভারে ক্লান্ত—সেখানে ট্রাম্প নামের মহিষটি নির্বিকার। হয়তো সেটাই তার সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা। ইতিহাসে বহু বিখ্যাত প্রাণীর কথা লেখা আছে—রাজাদের ঘোড়া, যুদ্ধের হাতি, মহাকাশে যাওয়া কুকুর লাইকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়তো এখন যুক্ত হবে আরেক নাম—ট্রাম্প, সেই মহিষ; যে বিক্রি হয়ে ফিরে এসেছে, মন্ত্রীকে নাড়িয়েছে, চিড়িয়াখানায় উঠেছে, নাম বিতর্ক তৈরি করেছে, কিউরেটরের বদলির কারণ হয়েছে এবং বিশ্বমিডিয়ায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। সব মহিষ মহিষ নয়। কারও কারও নাম ট্রাম্প। আর কারও কারও জীবনে ইতিহাস নিজে এসে শিং ধরে দাঁড়িয়ে যায়।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএস