Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeঅছাত্র-বিবাহিত-মাদক মামলার আসামি দিয়ে ৪৫৩ সদস্যের কমিটি

অছাত্র-বিবাহিত-মাদক মামলার আসামি দিয়ে ৪৫৩ সদস্যের কমিটি

জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ৪৫৩ সদস্যের বিশাল পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তৃণমূলে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১ মে কেন্দ্র থেকে অনুমোদিত এই কমিটিকে কেন্দ্র করে খোদ সংগঠনের ভেতরেই সৃষ্টি হয়েছে চরম অসন্তোষ।

অভিযোগ উঠেছে, ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু কর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন প্রবাসী, মাদক মামলার আসামি, অছাত্র, বিবাহিত এবং এমনকি আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। এই কমিটিকে ছাত্রনেতাদের অনেকেই ‘জগাখিচুড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সংগঠনটির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই কমিটির অনুমোদন দেন। নতুন ও পুরাতনদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মোট ৪৫৩ জন। জেলা ছাত্রদলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কমিটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ এতে ৩৩ জন সহ-সভাপতি, শতাধিক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৮৬ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং অর্ধশতাধিক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। এছাড়া সদস্য পদেই রয়েছেন প্রায় ৭৯ জন। পদের এই বাহুল্যকে অনেকেই হাস্যকর বলে মনে করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটিতে জায়গা পাওয়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিলয় আহমেদ নয়ন মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। জামালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। এ মামলায় তিনি একবার গ্রেফকারও হয়েছিলেন।

ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক হলেও এই কমিটির চিত্র ভিন্ন। সহ-সভাপতি পদ পাওয়া মিথুন খানের ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে অন্তত শতাধিক বিবাহিত এবং অর্ধশতাধিক অছাত্রের অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। ৫ আগস্টের পর ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ অনেক নতুন মুখকেও বড় পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

কমিটি পর্যালোচনায় তিনজন প্রবাসী ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করেও পদ পেয়েছেন। এর মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা রয়েছেন রাশিয়ায়। সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান আছেন মালয়েশিয়াতে। এছাড়া সম্প্রতি শরিফপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান রবিনকে বহিষ্কারের পর সেই আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন এবং বর্তমানে রয়েছেন দেশের বাইরে।

অছাত্র-বিবাহিত-মাদক মামলার আসামি দিয়ে ৪৫৩ সদস্যের কমিটি

অভিযোগ উঠেছে, সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ও সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসেম রেজা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিব্রত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

সাধারণ কর্মীদের মতে, রাজপথের ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে একটি বিশেষ অঞ্চল (রশিদপুর, হাটচন্দ্রা) এবং প্রভাবশালী নেতাদের স্বজনদের এই কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কমিটির অসংগতি মেনে নিতে না পেরে ইতোমধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল মুরসালিন সাদ্দাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে উড়ে এসে জুড়ে বসা লোকদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। অনেকের ছাত্রত্ব নেই, অনেকে বিবাহিত। সিনিয়র-জুনিয়র বিবেচনা করা হয়নি। এমন কমিটিতে আমি থাকতে চাই না।

পদত্যাগের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব তন্ময়-ও। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শতাধিক অছাত্র, বিবাহিত আর ছাত্রলীগ ঘেঁষা ব্যক্তিদের নিয়ে যে জগাখিচুড়ি হয়েছে, তাতে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রনেতা বলেন, আমি যে এই কমিটিতে একটি পদ পেয়েছি, তা প্রকাশ করতেও লজ্জা লাগে। এমন কেউ নেই, যে পদ পায়নি। অনেকেই আগে কোনো পদে ছিল না, সরাসরি জেলা পর্যায়ের পদ পেয়েছে। এমনকি প্রবাসীদেরও পদ দেওয়া হয়েছে। কীসের বিনিময়ে এমন হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এছাড়া রশিদপুর, হাটচন্দ্রা ও বাগেরহাটা বটতলা এলাকার নেতাকর্মীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, কেউ যদি ত্যাগী হয় এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকে, তাহলে বিবাহিত হলেও সমস্যা নেই। আর কমিটিতে অছাত্র থাকার বিষয়টি সঠিক নয়। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়েই কমিটি করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান সুমিল বলেন, দীর্ঘদিন পর জেলায় ছাত্রদলের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। আমি ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়েই কমিটি করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার অভিভাবক ও ঢাকাস্থ নেতাদের মতামত রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন কারণে কমিটি বড় করতে হয়েছে। এই কমিটি নিয়ে কারো কোনো ক্ষোভ নেই।

তিনি বলেন, এই কমিটিতে ছাত্রলীগের কোনো পদধারী নেই। কমিটি ভালো হয়েছে। একজন প্রবাসী রয়েছেন, তবে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন বলে তাকে পদ দেওয়া হয়েছে।

কেএইচকে/এএসএম