Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img
Homeদক্ষিণের কৃষিতে চীনাবাদামে বাজিমাত

দক্ষিণের কৃষিতে চীনাবাদামে বাজিমাত

অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে অধিক লাভের হাতছানিতে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে এখন নতুন সম্ভাবনার নাম চীনাবাদাম। চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ১৭ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে এ ফসলের চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে ভোলা ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ধানের চেয়ে ঝুঁকি কম ও বাজারব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ জনপদের কৃষকরা এখন চীনাবাদামে স্বপ্ন বুনছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় মোট ১৭ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে চীনাবাদামের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে ভোলা ও পটুয়াখালীতে। বিশেষ করে ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে চীনাবাদাম চাষ এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বরিশাল জেলায় ৩০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ৩৩২ হেক্টর জমিতে। পিরোজপুরে ১৬২ হেক্টরের বিপরীতে ১৫৫, ঝালকাঠিতে ১৫৫ হেক্টরের বিপরীতে ১৫১, পটুয়াখালীতে আট হাজার ১৫০ হেক্টরের বিপরীতে ছয় হাজার ৭৫৯, বরগুনায় ৮৭০ হেক্টরের বিপরীতে ৮০৪ এবং ভোলায় ৯ হাজার ৭০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ৯ হাজার ২৭৮ হেক্টর জমিতে।

আরও পড়ুন:
খামারিদের লাভের স্বপ্নে ‘কাঁটা’ ভারতীয় গরু
জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল ব্যবসায় ধস
বুঝে নেওয়ার ‘ঠেলাঠেলিতে’ দুই বছরেও চালু হয়নি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত জাতের ব্যবহার ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি হেক্টরে দুই দশমিক ৫ থেকে ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাষাবাদে ব্যবহৃত উন্নত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১, বিনা চীনাবাদাম-৪ ও বারি চীনাবাদাম-৮।

‘চরাঞ্চলের পলি ও দোআঁশ মাটি চীনাবাদামের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো গেলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ানো সম্ভব।’

মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, বরিশালের লাহারহাট, চাঁদপাশা ও চরবাড়িয়ার নদীতীরবর্তী এলাকাতে ব্যাপকভাবে চীনাবাদামের চাষ হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ধানের বিকল্প হিসেবে এই লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

লাহারহাট এলাকার কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি।

চাঁদপাশা এলাকার কৃষক খলিল বলেন, ধানের তুলনায় চীনাবাদামে খরচ কম, পাশাপাশি লাভও বেশি। এ কারণেই অনেক কৃষক এখন এটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ভোলার তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী নুরাবাদ, নীলকমল, আহমেদপুর, চরকলমি, মুজিবনগর ইউনিয়ন ও পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙাবালী, বাউফল উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে চীনাবাদাম চাষ হয়েছে।

চরফ্যাশনের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, চরাঞ্চলের পলি ও দোআঁশ মাটি চীনাবাদামের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

‘চীনাবাদাম একটি লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সরকারিভাবে উন্নত বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’

কৃষকরা জানান, দিনদিন কৃষকদের মধ্যে চীনাবাদাম চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে অনেক কৃষক এ আবাদ শুরু করেছেন।

দক্ষিণের কৃষিতে চীনাবাদামে বাজিমাত

আরও পড়ুন:
আলু চাষিদের ভাগ্য যেন উত্থান-পতনের গল্প
বন্ধ চিনিকলে আটকা হাজারো শ্রমিক-চাষির ভাগ্য
প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসকরা যেন ‘ঢাল-তলোয়ারহীন সেনাপতি’

উৎপাদিত বাদাম স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকেই বাদাম সংগ্রহ করছেন, ফলে কৃষকরা সহজেই বাজার পাচ্ছেন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাদাম চাষী ওয়াদুদ মল্লিক বলেন, এক মণ চীনাবাদাম উৎপাদনে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর বিক্রি হয় দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকায়। একই পরিমাণ জমিতে ধান উৎপাদনে যে খরচ হয় তার চেয়ে বাদামে অর্ধেক খরচ হয় এবং দাম দ্বিগুণ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে চীনাবাদাম ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী ফসল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে চীনাবাদাম এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। পরিকল্পিত উদ্যোগ, উন্নত বাজারব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে এই ফসল কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, চীনাবাদাম একটি লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সরকারিভাবে উন্নত বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে চীনাবাদামের চাষ হয়। কিন্তু ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। শুধু র হিসেবে খাওয়ার কাজে ব্যবহার হয়। চীনাবাদামের অন্যান্য প্রোডাক্ট হতে পারে কিন্তু তেল উৎপাদন করা হয় না। যদি চীনাবাদাম থেকে তেল উৎপাদন করা যেত তাহলে এ ফসলের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেত।

এমএন/এএইচ/এএসএম