দিনের পরদিন অন্তহীন মিটিং, ‘জরুরি কল’র নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেওয়া আর গভীর রাতে অফিসের কাজের চাপ সামলানো—তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের চাকরিজীবীদের জন্য এটি চেনা দৃশ্য। করপোরেট জীবনের ইঁদুরদৌড় আর মানসিক চাপ অনেকের জন্যই দমবন্ধকর হয়ে ওঠে। তেমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সাহসী ও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের এক তরুণী। আইটি খাতের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে তিনি এখন বেছে নিয়েছেন অটোরিকশার স্টিয়ারিং।
করপোরেট অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে অটোরিকশা চালানো শুরু করা এই তরুণীর গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার স্বাধীনতা ও মানসিক শান্তি পাওয়ার পাশাপাশি এই পেশা থেকে প্রতি মাসে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৫ হাজার টাকা)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইটি সেক্টরের চাকরিতে কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে ওই তরুণী প্রচণ্ড মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। এই একঘেয়েমি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবেন। নিজের শর্তে স্বাধীনভাবে বাঁচার তাগিদে তিনি অটোরিকশা চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
আরও পড়ুন>>
বাংলাদেশের ‘ট্রাম্প মহিষ’ নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে ফের তোলপাড়
বাংলাদেশের মতো ভারতেও মিলল ‘ভিআইপি’ ছাগল, দাম ৮ লাখ
টিকিট কেটেও বসে যেতে না পারায় রেলকে বড় অংকের জরিমানা
প্রথাগত করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে একজন নারীর অটোরিকশা চালানোর এই সিদ্ধান্ত শুরুতে অনেককে চমকে দিলেও, শেষ পর্যন্ত তা তার জন্য দারুণ ফল এনে দিয়েছে। তরুণী জানান, আগের চেয়ে তিনি এখন অনেক বেশি শান্তিতে আছেন। নিজের সুবিধাজনক সময়ে কাজ করার স্বাধীনতা পাওয়ায় তিনি এখন জীবনকে অনেক বেশি উপভোগ করতে পারছেন।
View this post on InstagramA post shared by Dr. Nezrin Midhlaj / Entrepreneur / Global Speaker (@dr.nezrin_midhlaj)
ইন্টারনেটে এই তরুণীর জীবনযুদ্ধের গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তার সাহসের প্রশংসা করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে এক আইটি চাকরিজীবী লিখেছেন, আইটি সেক্টরে ১৮ বছর কাটানোর পরও আমাকে এখনো অন্তহীন মিটিং সইতে হয়, যা আসলে একটা ই-মেইলের মাধ্যমেই সেরে ফেলা যেত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘কুইক কল’ আর গভীর রাতের টেকনিক্যাল সমস্যার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমাদের ধৈর্য আর মানসিক শক্তি এখন শেষ পর্যায়ে।
আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, নিশ্চয়ই আইটি চাকরি করার সময় তিনি ব্যাংক ব্যালেন্সে ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি রুপি জমিয়ে নিয়েছেন, যার কারণে এখন এই ঝুঁকি নিতে পেরেছেন।
তৃতীয় একজন নেটিজেন তরুণীর সহজ-সরল ও সুখী জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে সাধুবাদ জানিয়ে লিখেছেন, দিনশেষে প্রতিটি মানুষই একটু মানসিক শান্তি চায়। তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।
এ ঘটনার সূত্র ধরে আরেকজন ব্যবহারকারী ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তির অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, এক ব্যক্তি ১৫ বছর আগে করপোরেট চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি পাঁচটি ট্রাকের মালিক এবং প্রায় পাঁচ কোটি রুপির সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/

