ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় আফুলা শহরে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন। এর কিছু সময় পর নিকটবর্তী হাইফা শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটা এই দুটি হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলজুড়ে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যেভাবে অপরাধ-সহিংসতা বাড়ছে, তার সর্বশেষ শিকার হলেন এই দুজন।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড আদোম’ জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে আফুলা শহরে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান চিকিৎসকেরা। সেখানে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে অচেতন ও গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ‘হাএমেক মেডিকেল সেন্টারে’ নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক বা জাতীয়তাবাদী হামলা নয়, বরং অপরাধ চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে।
আরও পড়ুন>>
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে নারী-শিশুসহ নিহত ১৫
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা-যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীকে নিষিদ্ধ করলো ফ্রান্স
অন্যদিকে, এই ঘটনার কিছু সময় পরই উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হাইফা শহরের তিন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নিহত নারীর স্বামীও রয়েছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ‘আবু কাবির ফরেনসিক ইনস্টিটিউটে’ পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলে অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আরব-ইসরায়েলি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা বেশি হলেও, বর্তমানে ইহুদি নাগরিকেরাও প্রাণ হারাচ্ছেন।
এই লাগামহীন সহিংসতা দমন করতে না পারায় ইসরায়েলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং দেশটির পুলিশের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সরকারবিরোধীরা।
পাশাপাশি, বিচার বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ডজনখানেক বিচারকের পদ পূরণ না করায় বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিনেরও সমালোচনা করা হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, বিচারক সংকটের কারণে অপরাধীদের সাজা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে অপরাধীদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
কেএএ/

