মীর মাহফুজ আনাম, মাস্কাট (ওমান) থেকে
ওমানপ্রবাসী তরুণ ব্যবসায়ী মিজান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে অর্জন করেছিলেন ব্যাপক পরিচিতি। তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখেরও বেশি। ওমানের সোহার সিটিতে বসবাসরত মিজানের সোহার ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় একটি আইসক্রিমের দোকান রয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুরের দিকে দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে বাসা থেকে বের হন তিনি। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি। দোকানের কর্মচারীরা একাধিকবার ফোন করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে থাকেন।
মিজানের বন্ধু ইকবাল জানান, আজ (সোমবার) বেলা প্রায় ১১টার দিকে সোহারের লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে দরজা বন্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এক ওমানি নাগরিক। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে রয়েল ওমান পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে।
নিহত মিজানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিপি দাউদপুর গ্রামে। তিনি আবদুল জব্বারের ছেলে এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের রেখে গেছেন তিনি। পারিবারিক জীবনে আগেই নেমে এসেছিল শোকের ছায়া- কিছুদিন আগে তার একমাত্র শিশু সন্তানও মৃত্যুবরণ করে।
জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধার করে রয়েল ওমান পুলিশ সোহার হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ।
এমআরএম

