Become a member

Get the best offers and updates relating to Liberty Case News.

― Advertisement ―

spot_img

শিলাইদহে ভাঙল শত বছরের প্রথা, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে বসছে না গ্রামীণ মেলা

‌‘ঠাকুরের জন্মদিন ঘিরে স্বাধীনতার পর থেকেই দেখে আসছি কুঠিবাড়ির মেলা। মেলার কয়েকদিন আগে থেকেই মেয়ে-জামাই আর আত্মীয়-স্বজনরা শিলাইদহে ভিড় করতেন। বাড়ির আঙিনায় উৎসব লেগে...
Homeকল ডিটেইলস ও এনআইডির তথ্য বিক্রি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেফতার

কল ডিটেইলস ও এনআইডির তথ্য বিক্রি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেফতার

দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

গ্রেফতার শিক্ষার্থীর নাম মো. আরমান হোসেন (২২)। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছাত্র বলে জানা গেছে। তার বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার রামরামপুর ইউনিয়নের উত্তর রহিমপুর এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট সিম, ৬টি সিমকার্ড এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন খান বলেন, গত বছরের ৯ অক্টোবর সকালে সিআইডির সদর দপ্তরের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অধীন সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে ‘Siam Howlader’ নামক একটি ফেসবুক আইডি নজরে আসে। যেখানে দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন—জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পূর্ণাঙ্গ ডেটা, এসএমএস (এসএমএস) তালিকা, বিকাশ/রকেট/নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৩ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা এলাকা থেকে সিয়াম হাওলাদার (২৩) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। তার স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ (Sob Akhane) নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন খান বলেন, “সব এখানে” নামের অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করেন গ্রেফতার সিয়াম। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন।পরবর্তীতে সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন আল আমিনকে (২৩)। আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনি শুধু বিপণন দেখতেন, কিন্তু এই পুরো সিস্টেম এবং অ্যাপটি তৈরি করেছেন একজন দক্ষ প্রোগ্রামার।

পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মে ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকা থেকে আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আরমান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ছাত্র। প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডেভেলপিংয়ের কাজে তিনি খুবই দক্ষ। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আল আমিনের নির্দেশনা অনুসারে sobkhane.xyz, sobakhane.online, sobakhane.info নামীয় ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করে। পরবর্তীতে ‘সব এখানে’ নামক অ্যাপ তৈরি করে এই চক্রের অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের গোপনীয় সংবেদনশীল যেসব তথ্য বিক্রি করা হয় সেগুলো জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব গোপনীয় সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। এই চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে আসামির হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

কেআর/এমএমকে